Abu Sadek Muhammad Nayeem - (Chattogram)
প্রকাশ ০৬/০১/২০২২ ০৮:২৫পি এম

China: উইঘুরদের নিশ্চিহ্ন করাই চীনের লক্ষ্য-উইঘুর নারী জিয়াউদুন

China: উইঘুরদের নিশ্চিহ্ন করাই চীনের লক্ষ্য-উইঘুর নারী জিয়াউদুন
ad image
চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের জন্য যেসব পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে তাতে নারী,শিশু ও পুরুষেরা পরিকল্পিতভবে অমানবিক নির্যাতন,পাশবিক ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন করে কিছু তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।

নির্যাতিত নারীদের একজন হচ্ছেন তুরসুনে জিয়াউদুন যিনি বর্তমানে কজাখস্তানে থাকেন। তিনি ঐ পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে কয়েক বছর যাবত বন্দি ছিলেন। বিবিসিকে দেয়া তার পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে বন্দি থাকার বর্ণনা যে কোন পাঠককে বিচলিত করতে পারে।

"তখন কোন মহামারি চলছিল না কিন্তু ওই লোকগুলো সবসময়ই মুখোশ পরে থাকতো" - বলছিলেন তুরসুনে জিয়াউদুন।
"তারা স্যুট পরতো, পুলিশের পোশাক নয়। কখনো কখনো তারা আসতো মধ্যরাতের পরে। সেলের মধ্যে এসে তারা ইচ্ছেমত কোন একজন নারীকে বেছে নিতো। তাদের নিয়ে যাওয়া হতো করিডোরের আরেক মাথায় 'কালো ঘর' বলে একটি কক্ষে। ওই ঘরটিতে নজরদারির জন্য কোন ক্যামেরা ছিল না।"
জিয়াউদুন বলেন, বেশ কয়েক রাতে তাকে এভাবেই নিয়ে গিয়েছিল ওরা।

"হয়তো এটি আমার জীবনে এমন এক কলঙ্ক - যা আমি কখনো ভুলতে পারবো না"- বলছিলেন তিনি।

"এসব কথা আমার মুখ দিয়ে বের হোক - এটাও আমি কখনো চাইনি।" শিনজিয়াং প্রদেশে চীনের এইসব গোপন বন্দী শিবিরের একটিতে তুরসুনে জিয়াউদুন বাস করেছেন মোট ৯ মাস।

তিনি বলছেন, ওই সেলগুলো থেকে প্রতিরাতে নারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হতো, তার পর মুখোশ পরা এক বা একাধিক চীনা পুরুষ তাদের ধর্ষণ করতো।
জিয়াউদুন বলেন - তিনি নিজে তিনবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবারই দুই বা তিন জন লোক মিলে এ কাজ করে।

যৌন আনন্দ শেষে তারা নারীদের বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে দিত। বিশেষ স্থান ও স্পর্শকাতর জায়গাতে কামড়ের পরিমাণ বেশী হত-বলেছিলেন জিয়াউদুন।
জিয়াউদুন বলেন-পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র হতে মুক্ত হবার পর তিনি কজাখস্তানে তার স্বামীর কাছে পালিয়ে যান। সেখানে তার জরায়ুর বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় কেটে বাদ দেওয়া হয় এবং, শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষত নিবারণের জন্যে তাকে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিলো। নারীদেরকে যেমন পাশবিক নির্যাতন করত ঠিক তেমনি তারা পুরুষ ও শিশুদেরকে করতে।

যখন আমি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র হতে বের হই তখন বেশ কয়েকজন পুরুষ ও শিশুদের আর্তনাদ আমার কানে ভেসে এসেছিলো। অনেক পুরুষকে তারা খোঁজা ও ধর্মান্তরিত করে দিয়েছে। মূলত তাদের লক্ষ্য হচ্ছে গোটা উইগুর মুসলিমকে চীন থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া-বলেন জিয়াউদুন।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নতদেশ চীনে শিনজিয়াং এ পুনঃশিক্ষণ নামে মূলত উইগুরদের উপর জন্ম বিষয়ক গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে। চীনের শিনজিয়াং এর ঐ পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের বেশী উইগুর নারী,শিশু ও পুরুষ বন্দি রয়েছে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ