SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ০৬/০১/২০২২ ১১:১৪এ এম

Kapil Dev: ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক "কাপিল দেব"-র ৬৭তম জন্মদিন

Kapil Dev: ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক "কাপিল দেব"-র ৬৭তম জন্মদিন
ad image
কপিল দেব রামলাল নিখঞ্জ একজন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় ও কোচ। তিনি ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ১৩১টি টেস্ট ম্যাচ ও ২২৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার অধিনায়কত্বে ভারত ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করে। তিনি ১৯৯৯ সালের অক্টোবর থেকে আগস্ট ২০০০ সালের মধ্যে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট কোচ ছিলেন।

১৯৯৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেছিলেন সেই সময় টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি তারই ছিল,যা ২০০০ সালে কোর্টনি ওয়ালশের রেকর্ডটি চূর্ণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি ছিলেন টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেট ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া ক্রিকেট খেলোয়াড়। তিনি ২০০ ওয়ানডে উইকেট শিকার করা প্রথম ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ৪০০ টিরও বেশি উইকেট(৪৩৪ উইকেট) নিয়েছেন এবং টেস্টে ৫ হাজারেরও বেশি রান করেছেন।

২০০২ সালে উইজডেন কর্তৃক ‘শতাব্দীর সেরা ভারতীয় ক্রিকেটারে’ মনোনীত হন।২০১০ সালের ১১ ই মার্চ, তাঁকে আইসিসি ক্রিকেট "হল অফ ফেমে" অন্তর্ভুক্ত করে। গ্যারি সোবার্স, রিচার্ড হ্যাডলি এবং ইমরান খানের সাথে তাকেও ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার বলা হয়। তিনি একজন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিত। ভারতীয় দল ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল। কপিল দেব ছিলেন দুর্দান্ত অলরাউন্ডার খেলোয়াড়। কিছু সময়ের জন্য তিনি ভারতীয় দলের কোচও ছিলেন।

কপিল দেব হরিয়ানা হারিকেন নামেও পরিচিত। কপিল দেব তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব সচেতন ছিলেন। এই কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের কারণে তাঁকে কখনও দল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
২০০২ সালে উইজডেন কপিল দেবকে ‘শতাব্দীর ভারতীয় ক্রিকেটার’ নির্বাচিত করেছিলেন। এছাড়াও ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পুরষ্কার দিয়েছিল।

কপিল দেব ১৯৫৫ সালের ০৬ জানুয়ারি পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম রামলাল নীখঞ্জ,তিনি ছিলেন ঠিকাদার। তাঁর মায়ের নাম রাজ কুমারী লজবন্তী যিনি গৃহিনী।

কপিল দেবের সাত ভাইবোন রয়েছে যার মধ্যে তিন ভাই ও চার বোন। স্বাধীনতার আগে কপিল দেবের পরিবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে থাকতেন। তবে ভারত-পাক বিভাজনের পরে কপিল দেবের পরিবার ভারতে আসতে শুরু করে।

কপিল দেব প্রাথমিক শিক্ষা ডি.এ.ভি. থেকে পেয়েছিলেন। কলেজ থেকে করেছেন। তারপরে তিনি সিমলার সেন্ট এডওয়ার্ডস কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। কপিল দেব শৈশব থেকেই ক্রিকেট খেলা খুব পছন্দ করেছিলেন। এ কারণে তিনি স্কুলকাল থেকেই ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলেন এবং ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করেছিলেন। কপিল দেব বিখ্যাত ক্রিকেট কোচ দেশ প্রেম আজাদের তত্ত্বাবধানে ক্রিকেট শিখেছিলেন। মিঃ দেশ প্রেম আজাদ ছিলেন ক্রিকেটের দ্রোণাচার্য। কপিল দেবকে অলরাউন্ডার হিসাবে গড়ে তোলার জন্য তিনি দিনরাত এক করেছিলেন।

১৯৮০ সালে কপিল বিবাহ করেন রোমি ভাটিয়াকে এবং ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারী তাঁদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয় তাঁরা তার নাম রাখেন অমিতা দেব। ১৯৯৪ সালে কপিল গল্ফ খেলা শুরু করেন এবং ২০০০ সালে লরিয়াস ফাউন্ডেশনের একমাত্র এশীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাউন্সিলের অন্য দুই ক্রিকেটার ছিলেন ইয়ান বোথাম এবং ভিভ রিচার্ডস।পরে ২০০০ সালে স্টিভ ওয়া একাডেমির সদস্য হন। পরে কপিলকে লেখক রুপে আমরা পাই, তিনি তিনটি আত্মজীবনীমূলক রচনা লিখেছেন। ১৯৮৫ প্রকাশ পায় তাঁর লেখা "বাই গডস ডিক্রি", ১৯৮৭ সালে "ক্রিকেট মাই স্টাইল" এবং ২০০৪ সালে "স্ট্রেট ফ্রম দ্য হার্ট" তাঁর তিন নম্বর আত্মজীবনী হিসাবে প্রকাশ পেয়েছিল। ৩১ জানুয়ারী ২০১৪ সালে ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ,অফিসার্স ক্লাব,নয়াদিল্লিতে,দিল্লি ইউরোলজিকাল সোসাইটির আয়োজিত একটি ইভেন্টে তাঁর অঙ্গ দান করবার অঙ্গীকার করেছিলেন।

পরবর্তীকালে তিনি অভিনয় জগতে আসেন।তাঁকে "দিল্লাগি... য়ে দিল্লাগি", 'ইকবাল', "চেইন খুলি কি মাইন খুলি" এবং "মুঝসে শাদি করোগি" ছবিতে ছোট ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়। লর্ডসে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দি চলচ্চিত্রে তৈরি করছেন বলিউড পরিচালক কবির খান প্রযোজনা করেছেন অনুরাগ কাশ্যপ। এই ছবিতে কপিলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং।
কপিল দেব শুধু নিজে সাহসী নন,তিনি ভারতের হাজার হাজার উঠতি ক্রিকেটারের সাহসের প্রতীক।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ