MD RAZIBUL ISLAM - (Bogura)
প্রকাশ ০৩/০১/২০২২ ০৯:৪২পি এম

Sheikh Mujibur Rahman: আজ ৩ জানুয়ারী, আজকের এই দিনে শপথ গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু

Sheikh Mujibur Rahman: আজ ৩ জানুয়ারী, আজকের এই দিনে শপথ গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু
ad image
আজ ৩ জানুয়ারী, ১৯৭১ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষণমুক্ত সুখী সমাজের বুনিয়াদ গড়ার সংকল্পে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। ৩ জানুয়ারি, ১৯৭১। আড়ম্বরপূর্ণ সমাবেশের আয়োজন ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে।

উদ্দেশ্য- জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় ৪১৯ জন সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠান শুরুর একপর্যায়ে ধীর স্থির পায়ে আসলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরিচালনা করলেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

সমাবেশে নব নির্বাচিত পরিষদ সদস্যগণ দেশে শোষণ, অবিচার ও বৈষম্যমুক্ত এক নয়া সমাজ গড়ার জন্য ১১ দফা ও ৬ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন তারা। পরে সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার জনতার সামনে নির্বাচিত গণপ্রতিধিরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই প্রথম সামনে এসে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যরা একত্র হয়ে শপথ গ্রহণ করছেন। এটা রাষ্ট্রের সংবিধানের শপথ নয়, গণমানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্যদের নিজেদের শপথ। ২৫১ জন এমএনএ ও ২৬৭ জন এমপিএকে শপথবাক্য পাঠ করান শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তিনি নীতিনির্ধারণী ভাষণ দেন।

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলছেন, 'কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে তোমরা ৮৫ জন, আমরা ১৫ জন। সামরিক বিভাগে তোমরা ৯০ জন, আমাদের দিয়েছ ১০ জন। বৈদেশিক সাহায্যের তোমরা খরচ করছ ৮০ ভাগ, আমাদের দিয়েছ ২০ ভাগ।

মহাপ্রলয়ে দক্ষিণ বাংলার ১০ লাখ লোক মারা গেল। লাখ লাখ লোক অসহায় অবস্থায় রইল। রিলিফ কাজের জন্য বিদেশ থেকে হেলিকপ্টার এসে কাজ করে গেল, অথচ ঢাকায় একখানা মাত্র সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আর কোনো হেলিকপ্টার এলো না। আমরা এসব বে-ইনসাফির অবসান করব।'সেদিন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান রমান রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভায় বক্তৃতাকালে সাবধান করে বলেন, ষড়যন্ত্র এখনও চলছে।

জনতাকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধু বলেন, চরম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকবেন। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ঘোষণা করেন যে, ৬-দফার শাসনতন্ত্র প্রণীত হবেই, কেউ এটা ঠেকাতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রদত্ত নীতি নির্ধারণী বক্তৃতায় শাসনতন্ত্র প্রণয়নের প্রশ্নে ঘোষণা করেন যে, সংখ্যায় বেশি আছি বলে একথা বলবো না যে, কারো সহযোগিতা চাই না। আমরা সহযোগিতা চাই, তবে নীতির প্রশ্নে কোন আপোষ নেই। তিনি বলেন, ৬ দফা ও ১১ দফা আওয়ামী লীগ বা মুজিবের সম্পত্তি না, জনতার সম্পত্তি। একে রদবদল করার অধিকার সদস্যদের নেই।

বক্তৃতাকালে বঙ্গবন্ধু সাজাপ্রাপ্ত ও বিনাবিচারে আটক সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মী ছাত্র ও শ্রমিকদের মুক্তি ও সাজা মওকুফের দাবি জানান। তিনি উত্তরবঙ্গবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যমুনার উপর নিশ্চয় সেতু হবে, টাকার অভাব হবে না। শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার উপরও সেতু নির্মাণের প্রচেষ্টা চালানো হবে। তবে আস্তে আস্তে।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে কাশ্মীর ও ফারাক্কা বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার প্রচেষ্টা চালাবেন বলে তিনি ঘোষণা করেন।

শপথ গহণ শেষে ঘূর্ণিঝড় ও সামুুদ্রিক জলোচ্ছাসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং ৭ কোটি বাঙালির ঐক্য কামনা করে এক বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার জনতার সামনে নির্বাচিত গণপ্রতিধিরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ