Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ০২/০১/২০২২ ০১:৩৮পি এম

ছাত্রলীগ নেতা কতৃক সাংবাদিক লাঞ্চিত !

ছাত্রলীগ নেতা কতৃক সাংবাদিক লাঞ্চিত !
ad image
সংবাদ প্রকাশের পর যে পক্ষের অনুকূলে হয় নন্দিত হয়ে যান আবার যে পক্ষের প্রতিকুলে হলে তিনি হয়ে পড়েন নিন্দিত ।

বলছিলাম - দেশের জনপ্রিয় নিউজ এজেন্সি " New Hunt অনলাইন নিউজ পোর্টালের শরিয়তপুর জেলা প্রতিনিধি জিকে সানজিদের কথা। বয়সে তরুণ সংবাদ সংগ্রহে সাহসী, সাবলীল উচ্চারণে শরিয়তপুর জেলায় মোটামুটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন । শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সদর ইউনিয়নের নির্বাচনী নিউজ কাভার করতে গিয়ে নিজকে সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোমেল সরদার কতৃক লাঞ্চিত হতে হয়েছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক জিকে সানজিদকে থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়। ভিডিও সংবাদ সংগ্রহকালে সানজিদের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে টেবিলের উপর ছূড়ে ভেংগে ফেলা হয়। এইরুপ দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ দায়িত্বশীল ছাত্রলীগের নেতার হওয়া মোটেও উচিত ছিলো না। যা সর্বমহলে নিন্দিত হয়েছে।

বস্তুত, একজন সংবাদ সংগ্রাহক যে কোন স্হানে উম্মুক্ত ভাবেই নিউজ সংগ্রহ করার পেশাগত অধিকার রাখেন। তাকে লাঞ্চিত করা মানে তার ব্যক্তি ও পেশাগত স্বাধীণতাকে হরণ করা। উপস্হাপকের তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনা চলাকালে কেন্দ্রীয় নেতা জহির সিকদার সহ নির্বাচিত আটজন চেয়ারম্যান, থানা আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের সামনে এরুপ ঘটনা অবতীর্ণ হয়েছে তাত্ক্ষণিক ভাবেই উপস্থিত নেতারা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও করতে পারতেন। সোমেল সরদারের এমন আচরণকে সাংবাদিক সমাজ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখন পর্যন্ত আদৌ কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা সেটিও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি রহস্যময় হয়ে থাকছে ।

বিষয়বস্তুর আলোকে বলতে হয় - সখিপুর থানা ছাত্রলীগের নেতা সোমেল সরদার অভিযোগ তুলেছেন জিকে সানজিদ পক্ষ নিয়ে রিপোর্টিং করেছেন। অভিযোগের কোন সুস্পষ্ট ইংগিত সোমেল সরদার বর্ননা করতে পারেননি। ইচ্ছে করলে তাঁর পারসোনাল ফেসবুক আইডিতে ঘটনার বিবরণ জানাতে পারতেন। তা তিনি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ প্রসংগে না বলে পারছি না, স্হানীয় ভাবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই সরাসরি উপমন্ত্রীকে জানানো মোটেও শোভনীয় নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হওয়ার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উনাকে দেখতে হয় - ব্যস্ত থাকতে হয়। তিনি সব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতেও বাধ্য নন। এটা সবার মাথায় রাখা উচিত। সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা ও তথ্য উপাত্ত ছাড়া যেনো তেনো ভাবে তাঁর নাম ব্যবহার করে বক্তব্য দিয়ে তাকে বিতর্কিত করা সমাচীন হবেনা ।

পরিশেষে, সোমেল সরদার যেহেতু থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ছাত্রনেতা সেহেতু তাকে আরো সহনশীল হওয়া প্রয়োজন পাশাপাশি জিকে সানজিদ সংবাদ পরিবেশনেকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো কৌশলী হয়ে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা ও শব্দচয়নে যত্নবান হবেন ।

তরুন মোবাইল জার্নালিস্ট জিকে সানজিদের সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন - এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে স্বচ্ছ সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা করবেন - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ