Md shohag Hossen - (Patuakhali)
প্রকাশ ৩০/১২/২০২১ ০৯:৪৪এ এম

Hostage: অফিস সহায়ক জাফরের কাছে জিম্মি হাসপাতালের কর্মচারী

Hostage: অফিস সহায়ক জাফরের কাছে জিম্মি হাসপাতালের কর্মচারী
ad image
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অফিস সহায়ক জাফর এর বিভিন্ন অনিয়ম ও কুকর্মের স্বীকার নিরিহ কর্মচারীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতা ও প্রভাবের বলয় তৈরি করে সবার চোখের সামনে সিনেমার ভিলেন স্টাইলে একের পর এক ঘটনার জন্ম দিলেও নিরব ভূমিকায় অবতীর্ন হাসপাতাল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

দূর্নীতি, চাঁদাবাজী, চাকরি স্থায়ীকরনের নামে ঘুষ নেয়া, ইভটিজিং, যৌন হয়রানী, যৌন হেনেস্থামূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পটুয়াখালী সদর থানা সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা সত্বেও তেমন কোনো সুবিচার পায়নি ভূক্তভোগিরা। কারন জাফর যার ছত্র ছায়ায় এসব কর্মকান্ড চালিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে অনেকের মতে তার হাত খুব লম্বা যিনি জাফরকে ব্যবহার করে কামিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অর্থ, এক কথায় জাফর হচ্ছে জনৈক ডাঃ সাহেবের কামাই পূত্র।

২০১৮ সালে ৩রা এপ্রিল হাসপাতালের এম এল এস খাদিজা বেগমকে ও তার বোন ফাতিমা বেগমকে (আয়া) একই বছরের ৯ মে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করে থানায় মামলাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলে জাফরকে অন্যত্র নামে মাত্র বদলী করা হলেও, কথিত ডাঃ গংদের সহযোগিতায় মাত্র মাস তিন চারের মাথায় স্ব-পদে পূর্বের স্থানে চলে আসে জাফর।

এবার জাফর এতোটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে কোন প্রকার প্রশাসনিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতালের প্রতিটা ওয়ার্ডে তৈরি করে দূর্নীতি ও মাদকের আখড়া। ত্রাস সৃষ্টি করে চালিয়ে যায় চাঁদাবাজী, যৌন হেনেস্থাসহ সকল ঘৃণিত ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড। আবাসিক সার্জারী বিভাগের ডাক্তার শেখ মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদের উপস্থিতিতে তার অধীনে ডিউটিরত নারী কর্মচারী ও চিকিৎসারত নারী রুগিদের যৌন হেনেস্তা করে।

প্রভাব খাটিয়ে মারামারি, ধরাধরি সহ নৈরাজকতা সৃষ্টির কারনে জাফরকে বাঁধা দিলে ডাঃ শহীদুলকে লাঞ্ছিত করে জাফর এবং বাসায় চলে যাবার পরে জাফরের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ডাঃ শহীদের নাম্বারে ফোন দিলে তিনি ভয়ে ফোন না ধরে পাশে থাকা তার স্ত্রী ফারজানা সুমিকে দেন।

পটুয়াখালী সরকারী কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফারজানা সুমি ফোন ধরলে জাফর তার স্বামী ডাঃ শহীদুলকে অকথ্য, অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ সহ বদলী করার হুমকি ধমকি দেয়। ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারী ফারজানা সুমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এছাড়াও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে অনিয়ম, কর্মচারীদের প্রদেয় ভাতা আত্নসাৎ করা, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি-ঔষুধ সামগ্রী বিক্রি করার স্পর্ধা দেখিয়ে জাফর গংরা ক্ষান্ত না হয়ে বোস্টার বাবদ প্রত্যেক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কাছ থেকে পনেরো দিন অন্তর দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আদায় ক করে। টাকা দিতে অপারগ হলে প্রত্যেককে মারধর, লাঞ্ছিত করা এবং নারী কর্মচারীদের যৌনভাবে হেনেস্থা করে।

উপায়ন্তর না পেয়ে চলতি ডিসেম্বরের ১২ তারিখে ভূক্তভোগি মোসাঃহাওয়া আক্তার (আয়া) মোঃ বাবুল খান (এম এল এস) সাহিদা আক্তার (কুক) সিদ্দিকুর ফহমান (বাবুর্চী) বাবু মুনসী, আছমা বেগম,আন্জুমানারা বিলকিস সন্মিলিত ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে জাফর এবং গংদের স্বৈরাচারী, দূর্নীতি, চাঁদাবাজি ও যৌন হেনেস্থার বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ পেশ করেন।

এছাড়াও মাস্টার রোলে কাজ করা কর্মচারীদের কাছ থেকে চাকরি স্থায়ীকরন করে দেয়ার নামে একেক জনের কাছ থেকে ৪/৫ল ক্ষ টাকা করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ মেলে। নুর, সাহেদা, তুষার, সোহাগ,শাকুর, মাজেদা, মোহাম্মাদ আলী, কবির হোসেন সহ কর্মচারীরা এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এরকম চাকরি স্থায়ী করার নাম করে একবছর আগে জাফর ২৯ জনের কাছ থেকে টাকা নেয়। বর্তমানে কেউ বেতনও পাচ্ছেনা আর টাকা চাইলে টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা।

এরকম পাহাড়সম অভিযোগ থাকা সত্বেও স্বকীয় গতিতে চলেছে জাফরের কার্যক্রম।এ ব্যাপারে জাফরের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি নিজেকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড সর্দার পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন;ওয়ার্ডের ভিতরে বিভিন্ন দিক থেকে হাসপাতালের রুম ও বেড নিয়ে যারা থাকেন তারা চুরি,ছ্যাচরামি, বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক কাজ করতে থাকলে আমি ওয়ার্ডের ভিতরে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বাঁধা দিলে আমাকে বিভিন্নভাবে হ্যারেজমেন্ট করা হচ্ছে।

এবিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছু না বলে গনমাধ্যম কর্মীদেরকে অভিযোগ করতে বলেন। ##

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ