MD JANNATIN NAEEM - (Dhaka)
প্রকাশ ২৭/১২/২০২১ ০৫:৪৬পি এম

transport: শৃঙ্খলা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহনের যাত্রা

transport: শৃঙ্খলা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহনের যাত্রা
ad image
শৃঙ্খলা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহনের যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। নগরবাসীর জন্য এটা আনন্দের সংবাদ হলেও বাস্তবায়ন কতটুকু হবে সেটা দেখার বিষয়।
জানা গেছে, বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত চলবে বিশেষ পরিবহন।

উন্নত বিশ্বের উন্নত সিটি সার্ভিসের আদলেই আপাতত এই একটি রুটে চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে গোটা রাজধানীতেই চালু করা হবে রেশনালাইজেশনের ঢাকা নগর পরিবহন। বাস রেশনালাইজেশন পদ্ধতিতে বেশ নাখোশ ঢাকার পরিবহন মালিক সমিতি। এতে পরিবহন সেক্টরে তাদের প্রভাব খর্ব হবে। তবে এ পদ্ধতিতে নগরবাসীর সামনে গণপরিবহনের নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলবে। কয়েক দশকের বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রী হয়রানি কমবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।

রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন রুটে পরিবহন সংস্থাগুলোর বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে এবং পুরনো বাস তুলে নিতে এমন পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা শুরু হয় প্রায় দেড় দশক আগে। সেই পরিকল্পনাই অবশেষে বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে। আগের চিন্তাভাবনার সূত্র ধরে ২০১৬ সালে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ফ্র্যাঞ্চাইজির আওতায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি গঠন করা হয়।

বাস রেশনালাইজেশন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগে সূচনা থেকেই ঘোর আপত্তি ছিল পরিবহন মালিক সমিতির। যে কারণে প্রথম দুদফা তারিখ ঘোষণা করেও চালু করতে পাারেনি সিটি করপোরেশন। সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২০তম সভায় চূড়ান্ত করা হয় যে কোনো মূল্যে ২৬ ডিসেম্বর চালু করা হবে।

এতে মালিক সমিতি আর কোনো অজুহাত দেখাতে পারেনি। নগরীতে গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি, ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে। সড়ক পরিবহন নতুন আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশে সড়কে নৈরাজ্য, হয়রানি এবং ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

জীবনের অধিকার সবচেয়ে বড় অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকা শহরের প্রায় ২ কোটি মানুষের ৮০ ভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণিভুক্ত। এরা গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। করোনাকালীন এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের এই নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে পরিবহন মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এতে সকালবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে অফিসমুখী বাস ধরতে গিয়ে প্রতিদিনই অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ।

পরিবহন খাতে এই নৈরাজ্য দিনের পর দিন চলতে পারে না। সরকারকে সংঘবদ্ধ এই চক্রকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসতে হবে। যাত্রীসাধারণের বৃহত্তর স্বার্থেই বাস রেশনালাইজেশন কার্যক্রম যে কোনোভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।

কেবল সরকারের সতর্কতাই যথেষ্ট নয়, বরং আমরা মনে করি বাস মালিক সমিতিসহ চালক ও যাত্রী সবারই সচেতন হওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ