জাকারিয়া হোসেন হিমেল( - (Gazipur))
প্রকাশ ৩০/১১/২০২১ ১২:৪৬পি এম
নিজের কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে সতিনের সংসারে যোগান দিতে রাজি না হওয়ায় পোশাকশ্রমিক জোনাকিকে হত্যা করে রাজমিস্ত্রী সুজন। এ হত্যাকান্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

গ্রেফতার সুজনের স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে জিএমপি গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রাজমিস্ত্রী সুজন সংসারের অভাব অনটন গোছাতে একজন কর্মজীবী মেয়েকে বিবাহের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রী ও সন্তান সন্তুতি বা আগের সংসারের তথ্য গোপন রেখে পোশাকশ্রমিক রোজিনা আক্তার ওরফে জোনাকির সাথে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। জোনাকি গাজীপুর মহানগরের গাছা অঞ্চলের তারগাছ এলাকায় অনন্ত সুয়েটার নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। জোনাকির সাথে মন দেয়া-নেয়ার একপর্যায়ে তারা পারিবারিক বিবাহেরসূত্রে আবদ্ধ হয়।

বিবাহের পর তারা আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং সুজন জোনাকির পুরো বেতনের টাকা নিয়ে যেতেন। এভাবে প্রায় এক বছর সংসার করার পর সুজনের প্রতারণা ফাঁস হয়। জোনাকি জানতে পারে, সুজনের স্ত্রী ও সন্তান সন্ততি আছে এবং তার বেতনের টাকা নিয়ে আগের সংসারে ব্যয় করে। এনিয়ে সুজনের সাথে মনোমালিন্যের পর জোনাকি বাবা-মার আশ্রয়ে চলে যান।

গত দুই বছর যাবত জোনাকি বাবা-মাকে নিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করলেও তিনি সুজনের কাছে ছিলেন জিম্মি। এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সুজনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। এতে সুজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চাকু নিয়ে জোনাকির বাসায় যায়।

ঘটনার দিন গত শুক্রবার সুজন জোনাকির বাবা-মার সাথে দুপুরের খাবার খেয়ে গল্প গোজব করছিল এবং কখন সন্ধ্যা হবে সেই অপেক্ষায় ছিল। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সে জোনাকিকে নিয়ে বাড়ির ছাদে যায়। সেখানে গিয়ে তাকে তালাক না দেওয়ার জন্য জোনাকিকে বুঝানোর চেষ্টা করে।কিন্তু জোনাকি সিদ্ধান্তে অটল থাকায় এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে কণ্ঠনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জোনাকির মৃত্যু হয়।পুলিশ এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির সময় ফেলে যাওয়া সুজনের হাতঘড়ি উদ্ধার করেছে।

ঘটনার পর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গাছা থানার এসআই মো. নাদির-উজ-জামান র‌্যাবের সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুজনকে নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঞ্চন কেন্দুয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সুজন জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মলিকাডাঙ্গা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ