মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ১৪/১০/২০২১ ১০:৩৩এ এম

Young politics: তৃণমূলে তারুণ্যের পলিটিক্স !

Young politics: তৃণমূলে তারুণ্যের পলিটিক্স !
আজকাল অনেকেই রাজনীতিতে খ্যাতি আর দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য রাজনীতির প্লাটফরম বেছে নিয়েছে। পৃথিবীতে যতগুলো পেশা আছে - তার মধ্যে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা তরুণদের মধ্যেই বেশী লক্ষ্য করা যায়।

রাজনীতিতে নক্ষত্র হওয়া সবচেয়ে জটিল কাজ এবং কষ্টসাধ্য পরিশ্রমের কাজ। এতে জীবনের ঝুঁকি বেশী - ভাগ্য দেবতা সহায় না থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া বড়ই মুশকিল।

কৈশোরের দূরন্তপনা আর সমবয়সী বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ। অতঃপর একসময়ে বাইরের চাকচিক্যতে মোহাবিষ্ট হয়ে জীবনের জয় গান শুরু হয়। নিত্য নতুন বায়নায় জর্জরিত অভিভাবক সংসারে ক্ষণিক প্রশান্তি আনে বটে - রক্তাক্ত হয় ভবিষ্যৎ ।

নিয়মিত মিটিং মিছিলে যাতায়াত, নতুন নতুন সাজসজ্জায় নিজকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা। সাহসিকতা আর শ্লোগানে শ্লোগানে নিজকে এগিয়ে নেয়া। তারপর কোন নেতা যদি পিঠ চাপড়িয়ে বলে দেয় " সাবাস্ " এগিয়ে যাও করতালির জোয়ারে - প্রশংসার বন্যায় ভাসতে শুরু হয় - আরম্ভ হয় রংগীন জীবন।

বয়সের উদ্যমতা, উচ্ছাস দ্বিগুণ ভাবে বেড়ে যায়। নিজে আবেগী হয়ে হিরো হিরো ভাবা শুরু করে। স্বচ্ছল পরিবারের গুনধর সন্তানেরা আবদার গদগদ হয়ে - একটি ভালো মানের মোটরবাইক কেনার জন্য মায়ের কাছে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করে দেয় । অতিষ্ঠ আর - অপারগ হয়েও মা 'বাবা কিনে দিতে বাধ্য হন - কী করবেন ছেলেতো একটাই। একটা জিনসের প্যান্ট , কালো গগজ্ , স্মার্ট ফোন নিয়ে শুরু করে একটি নতুন অধ্যায়।

নতুন পংক্ষীরাজের হোন্ডা পেয়ে সংগী সাথী অভাব হয় না। স্হানীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। প্রথম প্রথম তেলের টাকা মায়ের কাছ থেকে নিলেও পরবর্তীতে আর নিতে হয় না। কারণ ছোট ছোট বদঅভ্যেস গড়ে উঠে। কলেজের বন্ধু বান্ধবীদের সংস্পর্শে এসে নিজের সমাদর বেড়ে যায়।

চাপাবাজী আর মিথ্যে গল্প বলে বিশেষ উচ্চতায় আসীন হয়। ভিতর আর বাহিরের নিজকে ভারসাম্য মেলাতে পারে না। দামী সিগারেট আর মাদক তাকে জড়িয়ে ধরে - হঠাৎ ছন্দ পতন হয়। অবৈধ কমিশন বানিজ্যে জড়িয়ে পড়ে - দিন গড়ালেই টাকার প্রয়োজন। দিশেহারা জীবনের আয়োজন। ফেরার আর পথ থাকে না। লেখা পড়া শেষ - রাজনীতির গতিপথ আকা বাঁকা। সময়ের কাছে হেরে যায় জীবন।

এঁরা ই আমাদের সন্তান - আমাদের গর্ব, এদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি। জীবনের শেষ সময়ে আমাদের আশ্রয় হবে। বাবা - মায়ের স্বপ্নে ঘেরা সেই সোনালী সন্তানেরা পথভ্রষ্ঠ হলে এই নীরব কান্না কাদের কাঁদতে হয় ?

সময়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তারুণ্যের উদ্দীপনা মৃতপ্রায় - যখন হতাশার শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে হিসেব কষে দেখে জীবনের অংক খাতা শূন্য।পারিবারিক টানা পোড়েনে বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবন জীবিকা বিভীষিকাময় - কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে পড়ে বিবেকবোধ। ভবিষ্যৎতের আগত দিনগুলো নিরাপত্তাহীনতা কাটতে থাকে।

আবেগ ভরা উচ্ছল তরুণেরা যে সময়,শ্রম,অর্থ ব্যয় করে চলেছে । সেটা যদি নিজেদের জীবন গঠনে মনেনিবেশ করতো - তাহলে নিজের পরিবারের সাথে সমাজটাও আরও সমৃদ্ধশালী হতো বৈকি ? কিন্তু এই সহানুভূতিমূলক পরামর্শ কে দেবে ? কে দেখাবে নতুন সূর্যের আলো - স্বপ্নের হাতছানিতে নিজকে মানুষ হিসেবে কবে গড়ে তুলবে ?

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ