রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ১৩/১০/২০২১ ০৭:০৬পি এম

up election: হাইব্রিড মনোনয়ন এবং ইউপি'র ভবিষ্যৎ

up election: হাইব্রিড মনোনয়ন এবং ইউপি'র ভবিষ্যৎ
আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যেমন আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করে তেমনি ইউপি নির্বাচনে হাইব্রিড বিএনপি- জামাতকে মনোনয়ন দিয়ে সংগঠনকে দূর্বল করে "শেখ হাসিনার " হাতকে রক্তাক্ত করার সামিল।

ইতিহাস ভূলে গেলে চলবে না - " দুয়ে দুয়ে চারই হয় - দুয়ে দুয়ে বাইশ হয়না কখনো "।

সাম্প্রতিক সময়ে বহু আওয়ামী পন্হী সুধীজন মেসেঞ্জারে তাদের বার্তা পাঠিয়ে নিজেদের ক্ষোভকে প্রশমিত করেছেন। আমিও নিবিষ্ট মনে পড়ে হতাশ হয়েছি।

অবাক মনে একটা কথাই ভেবেছি - সংগঠন ও দেশ নিয়ে কতকিছু ভাবেন এঁরা। কিন্ত যারা রাষ্ট্রের নরম গদিতে বসে সিদ্ধান্ত দেন - নির্দেশনা দেন তারা কী কখনো এদের কথা ভূলেও ভাবেন ?

যে একনিষ্ঠ কর্মী বছরের পর বছর
আওয়ামীপন্থী হয়ে নিজকে সততার সাথে জনসংযোগ করে সংগঠনকে জীবিত রাখলেন নিজকে নির্লোভ রেখে অর্জিত উপার্জনের টাকায় দুঃসময়ে সাংগঠনিক চেতনাকে সমুন্নত করে রাখলেন। হঠাৎ করে তিনি জানতে পারলেন - মনোনয়ন পেয়েছে কোন বিরোধী শক্তির পয়সাওয়ালা মহাজন। তখন কী ঐ তথাকথিত সন্মানিত নির্ধারকরা একটুও কী ভেবেছেন ? একজন প্রার্থীর মানসিক পরিস্থিতি কী দাড়াতে পারে ? তাদের স্বগোত্রীয়দের মনে কীরুপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে ? যারা নিশ্চিত ছিলো অমুক ভাই- ই পাবে... কিন্তু কী হলো ? মনোবল ভেংগে চুরমার হয়ে গেলো। রাগে ক্ষোভে সিদ্ধান্ত সেই গোষ্ঠি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলো । এখানে জনগনই তার প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটা কী তাদের অপরাধ ? নাকি সংগঠনকে দুঃসাহস দেখানোর চর্চা ?

যাকে মনোনয়ন দেয়া হলো তিনি বিএনপির শক্ত সামর্থ্য ব্যক্তি এবং মনোনয়নের আগে এলাকায় আওয়ামী লীগের পাতি নেতাদের সহযোগিতায় একটা নিজস্ব বলয় তৈরি করে রেখে ছিলেন। যাদের নেপথ্যে শক্তিতে ই উক্ত নেতা মনোনয়নের যোগ্যতা তৈরি করেছিলেন - খোদ আওয়ামী আমলে ই ।

প্রশ্ন আসতে পারে সেই এলাকায় কী কোন যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না যিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখেন ? ছিলোতো বটেই - তবে ঐ চামচা পাতি নেতাদের সমর্থন ছিলো না। কেননা সত্যিকার যোগ্য ব্যক্তি মনোনয়ন পেলে তাদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকায় থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। দিশেহারা হয়ে পড়বে - মুষ্টিমেয় কয়েকজন যারা সংগঠনের চাদর গায় দিয়ে সমাজের অবৈধ কার্যক্রমের কল কাঠি নেড়ে - কমিশন বানিজ্যে বিভোর। তাদের জন্য ই কী এই অভিনব কৌশল ?

মনে করেন - যিনি মনোনয়ন পেলেন সেই এলাকায় আওয়ামী লীগ কী বেচে থাকবে নাকি বিএনপি জেগে থাকবে ? নীতি নির্ধারকরা ঠান্ডা মাথায় আওয়ামী চেতনাকে গলা টিপে মেরে ফেল্লেন - বাকি কাজ করার অলিখিত ক্ষমতা তাদের ঐ চেয়ারম্যানকে করার সম্মতি দিলেন । এভাবে কী গনতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকবে ?

বাস্তবতায় - উক্ত ডিসিশন মেকাররা কেন রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন না ? তাদের একটা ভূল সিদ্ধান্তের কারণে উক্ত জনপদে বিশৃঙ্খলা সাংঘর্ষিক অবস্থান কারা তৈরি করে দিলেন ? রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দায়ভার কে বহন করবে ? তাদের সততার মূল্য কী রক্ত বিলিয়ে কিনতে হবে ?

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ