Feedback

এক্সক্লুসিভ, খোলা কলাম

আত্মহত্যা সমাধান নয়, সামাজিক ব্যাধি

আত্মহত্যা সমাধান নয়, সামাজিক ব্যাধি
August 08
02:45pm
2020

আই নিউজ বিডি ডেস্ক Verify Icon
Eye News BD App PlayStore
আমাদের জীবন বর্ণময় ও বৈচিত্র্যময়। অপরূপ পৃথিবীতে প্রিয়জনদের হৃদয় নিঙরানো ভালবাসা চিরকাল বেঁচে থাকার ইচ্ছা জাগায়। আর তাই তো কবি গুরু বলেছেন, "মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই"। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রও আমাদের সমাজে কম নয় অর্থাৎ কারো কারো কাছে এ পৃথিবী নরকের মতো এবং তারা বেঁচে থাকার স্পৃহা  হারায়। ফলে জীবন জলাঞ্জলি দিতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেন। বর্তমান বিশ্বে ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ আত্মহত্যা। বিভিন্ন গবেষকের প্রাপ্ত উপাত্ত মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যার শিকার। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ২৮ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী এক বা একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। 

সাধারণ মানুষই আত্মহত্যার করেন তা মোটেও নয় বরং পৃথিবীর বহু আলোচিত ব্যাক্তিরাও আত্মহত্যা করে নিজেদের শেষ করেছেন। রাজনীতিবিদ রবার্ট বাড ডয়ারের মৃত্যুই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত আত্মহত্যা। তার আত্মহত্যার দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয় যা এখনো ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়াও ১৯৪৫ সালে বার্লিনের একটি বাঙ্কারে গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত যিনি সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন আত্মহত্যা বিরোধি একটি মুভিতে অথচ তিনিই আত্মহত্যা করেন যা জনমনে প্রশ্ন জাগিয়েছে। কিন্তু মানুষ কেন এতোটা নির্দয় হয়ে নির্দিধায় নিজেকে মৃত্যুর কাছে সপে দেন? বস্তুত এর কারণ অনেক তন্মেধ্যে অন্যতম হলো বিষণ্ণতা  যা একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৫ জনের ১ জন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের বিষণ্ণতা বা এনজাইটিতে ভুগছেন। বিষণ্ণতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হচ্ছে আক্রান্ত রোগীরা নীরবে-নিভৃতে আত্মহত্যা করে বসেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায় শতকরা ৭০ ভাগ আত্মহত্যার কারণই বিষণ্ণতা। বিশ্বের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের আত্মহত্যার প্রধান কারন বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন। বাংলাদেশের শতকরা ১৮ থেকে ২০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো প্রকারের বিষণ্ণতায় ভুগছেন। বিষণ্ণতা ছাড়াও মাদকাসক্তি, অপরাধ বোধ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম-কলহ, অভাব অনটন,  যৌন নির্যাতন, মা-বাবার ওপর অভিমান, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থ ও প্রতারণার শিকার ইত্যাদি আত্মহত্যার বড় ধরণের কারন।

অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে মোট আত্মহত্যাকারীদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী। এর উল্লেখযোগ্য কারণ হলো: নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, ইভটিজিং, ধর্ষণ ইত্যাদি। সমাজে একজন মেয়ে যখন প্রতিনিয়ত ইভটিজিং ও হুমকির স্বীকার হন তখন সে মানসিক অস্থিরতা ও অসুস্থ্যতায় কাতরাতে থাকে। ফলস্বরূপ সে আত্মহত্যার মতো ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতেও চিন্তা করেনা। তাছাড়া, বাংলাদেশে ধর্ষণ বর্তমানে সামাজিক ক্যান্সারে রূপ ধারণ করেছে যার কারণে নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতাও কয়েকগুণ বেড়েছে। অধিকাংশ ধর্ষিত মেয়ে সমাজ থেকে নিজের নাম চিরতরে মুছে দিয়ে নিজেকে কলঙ্ক মুক্ত করার পন্থা হিসেবে আত্মহত্যাকে বেছে নেন যা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয় বিয়ের পর যেসব নারী স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হন তারাও আত্মহত্যাকে সমাধান হিসেবে মনে করেন।

প্রকৃতপক্ষে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয় বরং বহু সমস্যার সূত্রপাত ঘটায়। যে পরিবারের একজন সদস্য আত্মহত্যার মতো কলুষিত পথে পা বাড়ান সে পরিবারকে আজীবন অবর্ণনীয়    যন্ত্রণা পোহাতে হয়। শুধু তাই নয় সমাজের হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্তরাও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে অনুপ্রাণিত হয়। একটি আত্মহত্যা পুরো সমাজে এর বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দেয় অর্থাৎ  আত্মহত্যা সমাজ হত্যার নামান্তর। পবিত্র ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যার  ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে হুশিয়ারি রয়েছে। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মেও আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আত্মহত্যাকে সমাজ থেকে দূর করা অপরিহার্য আর এজন্য প্রথমেই সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি সমাজ হতে হবে সুস্থ্য সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র যেখানে সর্ব স্তরের মানুষ চিত্তবিনোদনের সুযোগ পাবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে, প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিবারে প্রত্যেক সদস্যের প্রতি প্রত্যেক সদস্যের শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নজরদারি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পিতা মাতাকে বিশেষ সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে অর্থাৎ সন্তানের মতিগতি বুঝার চেষ্টা করতে হবে, তাদের ওপর কোনো কাজ জোরপূর্বক চেপে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সন্তানের ব্যর্থতায় তাকে বকাঝকা না করে সাহস ও উৎসাহ জোগাতে হবে। নারী ও মেয়ে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষার জন্য সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার প্রবণতা সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বস্তুত, সরকারের তৎপরতা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় হলেই সৃষ্টি হবে একটি আদর্শ সমাজ যেখানে থাকবেনা আত্মহত্যার মতো সামাজিক অভিশাপ। পরিশেষে, যারা হতাশাগ্রস্ত ও বিষণ্ণতায় বিভোর তাদের জন্য বিশ্বকবির কবিতার দুটি পঙক্তি, "মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।"  
 

                  মুহম্মদ সজীব প্রধান
শিক্ষার্থীঃ আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
ই-মেইলঃ sajibprodhanbd@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৭৫৬-৬১৪৯৬৯

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

একুশ বছরেও ভর্তুকি পায়নি হাবিপ্রবির কোন হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা!

একুশ বছরেও ভর্তুকি পায়নি হাবিপ্রবির কোন হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা!

কিশোরগঞ্জে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ

কিশোরগঞ্জে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ

কিশোরগঞ্জে ‘আল্লাহর দল’র সদস্য আটক

কিশোরগঞ্জে ‘আল্লাহর দল’র সদস্য আটক

কাবিনের টাকা বাড়ানোর কথা বলে গৃহবধূকে ধর্ষণ, কাজী কারাগারে

কাবিনের টাকা বাড়ানোর কথা বলে গৃহবধূকে ধর্ষণ, কাজী কারাগারে

বৌভাত অনুষ্ঠানে বরের জানাজা, কনে হাসপাতালে

বৌভাত অনুষ্ঠানে বরের জানাজা, কনে হাসপাতালে

মির্জাপুরে সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ

মির্জাপুরে সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ

আক্কেলপুর পৌর মেয়র প্রার্থী নির্ধারনে সরকার দলীয় মতামত নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আক্কেলপুর পৌর মেয়র প্রার্থী নির্ধারনে সরকার দলীয় মতামত নির্বাচন অনুষ্ঠিত

প্রথম ধাপে পৌর নির্বাচনে ১০৩ মেয়র প্রার্থী বৈধ

প্রথম ধাপে পৌর নির্বাচনে ১০৩ মেয়র প্রার্থী বৈধ

কটিয়াদীতে নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা

কটিয়াদীতে নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা

নান্দাইলে তরুণীকে নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ল পুলিশ

নান্দাইলে তরুণীকে নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ল পুলিশ

বগুড়ায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণ করে দেড় মাস ধরে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২

বগুড়ায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণ করে দেড় মাস ধরে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২

ফ্রান্সে ৭৬টি মসজিদ বন্ধের পরিকল্পনা

ফ্রান্সে ৭৬টি মসজিদ বন্ধের পরিকল্পনা

জাবির EEC-JU এর দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জাবির EEC-JU এর দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রুবিনা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

রুবিনা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

মুজিববর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মুজিববর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট'র ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ

যেভাবে নামকরণ হয় বাংলাদেশের

যেভাবে নামকরণ হয় বাংলাদেশের

শীঘ্রই নকল মাংস, দামও নাগালের মধ্যে

শীঘ্রই নকল মাংস, দামও নাগালের মধ্যে

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

আসামিকে ছয় মাস পর পর মাদক টেস্ট দিতে হবে

আসামিকে ছয় মাস পর পর মাদক টেস্ট দিতে হবে

একক নামে ৫০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না

একক নামে ৫০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না

মুসলিমদের জোরপূর্বক শুকর খাওয়াচ্ছে চীন

মুসলিমদের জোরপূর্বক শুকর খাওয়াচ্ছে চীন

ধূমপান করলেই চাকরি নেই

ধূমপান করলেই চাকরি নেই

পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ

পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ

পিরামিডের সামনে অশ্লীল ফটোশুট, গ্রেপ্তার মডেল ও ফটোগ্রাফার

পিরামিডের সামনে অশ্লীল ফটোশুট, গ্রেপ্তার মডেল ও ফটোগ্রাফার

আজ জীবননগর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

আজ জীবননগর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্য়ায়ের কর্মকর্তাদের ৩দিনের প্রশিক্ষণ শুরু।

ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্য়ায়ের কর্মকর্তাদের ৩দিনের প্রশিক্ষণ শুরু।

ভার্চুয়াল নয়, প্রতি বছরের মতোই বসবে আসর : অস্কার ২০২১

ভার্চুয়াল নয়, প্রতি বছরের মতোই বসবে আসর : অস্কার ২০২১

স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর কণ্ঠশিল্পী আকবরের স্ত্রী

স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর কণ্ঠশিল্পী আকবরের স্ত্রী

খুলনায় সেনা সদস্যের পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন স্ত্রীঃ আটক ১

খুলনায় সেনা সদস্যের পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন স্ত্রীঃ আটক ১

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর করোনায় আক্রান্ত

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর করোনায় আক্রান্ত