রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ২০/০৯/২০২১ ০৩:১৮পি এম

সেদিনের শবনম আজকের পরীমণি!

সেদিনের শবনম আজকের পরীমণি!
দেবাশীষ কর্মকার,ঢাকা।

শবনম গণ ধর্ষিতা হয়ে পাকিস্তান ছেড়ে ছিলেন !
৬০ এর দশক থেকে ৭০ এর দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত আপাত উদার পাকিস্তান এর সামাজিক আবহে পূর্ব পাকিস্তানের ফুটবল রেফারি ননী বসাকের মেয়ে ঝর্ণা বসাক অখণ্ড পাকিস্তান চলচিত্রে একক ও প্রধান স্থান দখল করে নেন , ৬০ ও ৭০ এর দশকে হিন্দু নারী ঝর্নাবসাক তার সিনেমার নাম শবনম নিয়ে ৭১ পূর্ব বর্তী অখন্ড পাকিস্তান ও ৭১ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তান থেকে খণ্ডিত পাকিস্তানের প্রধান অভিনেত্রী হতে কোন সমস্যা হয়নি , সমস্যার সূত্রপাত হয় ১৯৭৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইসলামিস্ট জেনারেল জিয়াউল হক এর সামরিক অভ্যত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর , ১৯৭৮ সালের ১৩ মে এর রাতে ১৯৭৮ সালের ১৩ই মের রাতে তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্য সচিব এফকে বানদিয়ালের ভাগ্নে ফারুক বানদিয়াল এবং তার চার বন্ধু অস্ত্রশস্ত্রসহ শবনমের নিজ বাড়িতে হামলা চালায়।

স্বামী বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষ এবং একমাত্র সন্তানকে বেঁধে রেখে তাদের সামনেই এই ৫ নরকের কীট শবনমকে সারারাত ধরে ধর্ষণ করে। এরা সবাই ছিল উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক পরিবার থেকে আগত।

ঘটনার পরে শবনম এবং তার পরিবারের উপরে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে মামলা-মোকদ্দমা না করা হয়। কিন্তু সেই সময় পাকিস্তানের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাই শবনমের পাশে এসে দাঁড়ায় ফলে একনায়ক জেনারেল জিয়াউল হক সরকার বাধ্য হয় বিশেষ সামরিক ট্রাইবুনাল গঠন করতে।

বিচারের রায়ে ৫ আসামিকেই ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মূল আসামীর মামা যিনি পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন শবনম এবং তার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এবং তাদেরকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্যতা দেওয়া হয়।

শবনম এক পর্যায়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। শবনমের নিজের আইনজীবী এসএম জাফর ফাঁসির রায় হওয়ার পরে জেনারেল জিয়াউল হককে চিঠি লেখেন এই মর্মে যে আসামিরা গত ভুট্টো সরকারের আমলে যে সামাজিক অবক্ষয় হয়েছে এবং উশৃংখল সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে পথভ্রষ্ট হয়ে এই কাজ ঘটিয়েছে এবং এতে তাদের নিজেদের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না।

একনায়ক জেনারেল জিয়াউল হক পরবর্তীতে সব আসামির মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে দেন এবং এই মামলাকে ধর্ষণ মামলা থেকে থেকে বাদ দিয়ে একটা সাধারন ডাকাতির মামলা হিসাবে নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

যে পাঁচজন শবনম কে ধর্ষণ কর্মে জড়িত ছিলেন তাদের ইমাম ফারুক বানদিয়াল ২০১৮ এ ইমরান খান এর দল এর টিকেটে মনোনয়ন লাভ করে,পরবর্তীতে পাকিস্তানের আম জনতার সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ইমরান খান ধর্ষক ফারুক বানদিয়ালের মনোনয়ন বাতিল করেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ