রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
মোঃমাসুদ করিম - (Thakurgaon)
প্রকাশ ২০/০৯/২০২১ ০৬:৫৭পি এম

"ঘটনাচক্রে শিক্ষক এবং শিক্ষকতা"

"ঘটনাচক্রে শিক্ষক এবং শিক্ষকতা"
শিক্ষক সমাজে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর গত কয়েকদিন আগের বক্তব্যের একটা খন্ডিত অংশ "শিক্ষকদের একটা বড় অংশই ঘটনাচক্রে শিক্ষক "। আমি মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত হয়েই এই লেখা লিখতে শুরু করলাম।

আমরা যারা আজ শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি আপনারা একটু চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুনতো নব্বই দশকের নকলের মহোৎসবে যারা অবৈধভাবে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তারা অধিকাংশ কোন পেশায় নিয়োজিত?নব্বই দশকে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়,উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধুম পড়েছিল(ক্ষেত্র বিশেষে এখনো) সে সব প্রতিষ্ঠানে কাদের নিয়োগ হয়েছিল?

বিসিএস এ প্রথম পছন্দ শিক্ষক হিসেবে বেছে নেওয়া কতজন? ক্যাডার ননক্যাডারের মাঝে কতজন শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুতি নিয়ে আসি?অনেক ক্ষেত্রেই মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য যথার্থ।৭৫ পরবর্তী ঘটনায় আমরা অনেকভাবেই পথচ্যুত হয়েছি শিক্ষকতা পেশাটাও এর ব্যাতিক্রম নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান সরকার শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করতে কি কি উদ্যোগ নিয়েছে? অনেকেই হয়তো বলবে বেতন বাড়িয়েছে কিন্তু সেটাতো সব পেশাতেই বেড়েছে বরং শিক্ষদের তুলনামূলক কম বেড়েছে।

এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য কিন্তু বদলি ছাড়া স্বল্পবেতনে বাইরের জেলায় নিয়োগ কতটুকু সফল হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদকে ২য় শ্রেণীর ঘোষণা করার অর্ধযুগ হলেও সেটা কি আলোর মুখ দেখেছে?

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বৈষম্য কমিয়ে শতভাগ পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছিল তা কি হয়েছে? সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৪ তম থেকে বাড়িয়ে ১৩ তম করা হয়েছে আর একইসময় ইউপি সচিবদের ১৫/১৪ থেকে ১০করা হয়েছে। তাহলে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনটা?

প্রাথমিকের শিক্ষকদের পদোন্নতির জায়গায় বিভাগীয় প্রার্থীতা কেড়ে নেওয়ার সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন কিন্তু কেন? মাননীয় মন্ত্রী সহকারী শিক্ষকরাতো বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে যোগ্যতার প্রমান দিয়েই উপরে যেতে চায় তাহলে সমস্যা কোথায়? অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা জীবন কাটায় তা সর্বজনস্বীকৃত সেটা হয়তো শিক্ষকরা মেনেই নিয়েছে কিন্তু বর্তমানে চলছে এই পেশাটাকে খাটো করে বড় হওয়ার প্রতিযোগিতা।ডিপিএড চলমান থাকায় সেখানে ও দেখছি শিক্ষকদের প্রতি ইন্সট্রাক্টর স্যারদের করুনা।

প্রস্তুতি নেন যাতে অন্য পেশায় চলে যাওয়া যায়!আশ্চর্যের বিষয় হলো আমার প্রশিক্ষকও চায় আমি যেন অন্য পেশায় চলে যাই শিক্ষকতা যেন বাস স্টপেজ! এরকম হাজারো সমস্যা যার সবগুলো বলে আরও বেশি অবহেলিত হতে চাই না। মাননীয় মন্ত্রী আপনিই বলেন এগুলো জেনে কেন একজন মেধাবী উচ্চ শিক্ষিত তরুণ এ পেশায় পছন্দ করে আসবে? আসলে স্টপেজ হিসেবে ব্যাবহার করে চলে যায় আর যারা সংসার বা পরিবারের কারনে থেকে যেতে বাধ্য হয় তারাও হতাশা নিয়ে বাকিটা সময় কাটিয়ে দেয়।

আমার ধারণা বর্তমানে এ পেশায় ঘটনা চক্রে শিক্ষকের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি, খুব অল্প সংখ্যক আছে ভালোবেসে শিক্ষক তাদেরো অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে না। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন এমন উদ্যোগ নিন যাতে ঘঘটনাচক্রে শিক্ষকের পরিমাণ যেন দিনে দিনে আর বাড়তে না পারে বরং প্রথম পছন্দ হিসেবেই শিক্ষকতা করে।আমের বীজ লাগিয়ে পরিচর্যা যত ভালোই করা হোক না কেন আঙ্গুর পাওয়ার আশা করা যাবে না। আমার কথায় কোন স্যার মন খারাপ করলে ক্ষমা করবেন বিভাগীয় প্রার্থীতা হারানোর ভয়ে সবকিছু এলোমেলো মনে হচ্ছে।
"ঘটনাচক্রে শিক্ষক এবং শিক্ষকতা"

শিক্ষক সমাজে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর গত কয়েকদিন আগের বক্তব্যের একটা খন্ডিত অংশ "শিক্ষকদের একটা বড় অংশই ঘটনাচক্রে শিক্ষক "। আমি মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত হয়েই এই লেখা লিখতে শুরু করলাম।

আমরা যারা আজ শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি আপনারা একটু চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুনতো নব্বই দশকের নকলের মহোৎসবে যারা অবৈধভাবে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তারা অধিকাংশ কোন পেশায় নিয়োজিত?নব্বই দশকে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়,উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধুম পড়েছিল(ক্ষেত্র বিশেষে এখনো) সে সব প্রতিষ্ঠানে কাদের নিয়োগ হয়েছিল?বিসিএস এ প্রথম পছন্দ শিক্ষক হিসেবে বেছে নেওয়া কতজন?

ক্যাডার ননক্যাডারের মাঝে কতজন শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুতি নিয়ে আসি?অনেক ক্ষেত্রেই মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য যথার্থ।৭৫ পরবর্তী ঘটনায় আমরা অনেকভাবেই পথচ্যুত হয়েছি শিক্ষকতা পেশাটাও এর ব্যাতিক্রম নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান সরকার শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করতে কি কি উদ্যোগ নিয়েছে? অনেকেই হয়তো বলবে বেতন বাড়িয়েছে কিন্তু সেটাতো সব পেশাতেই বেড়েছে বরং শিক্ষদের তুলনামূলক কম বেড়েছে।এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য কিন্তু বদলি ছাড়া স্বল্পবেতনে বাইরের জেলায় নিয়োগ কতটুকু সফল হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদকে ২য় শ্রেণীর ঘোষণা করার অর্ধযুগ হলেও সেটা কি আলোর মুখ দেখেছে?

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বৈষম্য কমিয়ে শতভাগ পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছিল তা কি হয়েছে? সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৪ তম থেকে বাড়িয়ে ১৩ তম করা হয়েছে আর একইসময় ইউপি সচিবদের ১৫/১৪ থেকে ১০করা হয়েছে।

তাহলে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনটা?প্রাথমিকের শিক্ষকদের পদোন্নতির জায়গায় বিভাগীয় প্রার্থীতা কেড়ে নেওয়ার সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন কিন্তু কেন? মাননীয় মন্ত্রী সহকারী শিক্ষকরাতো বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে যোগ্যতার প্রমান দিয়েই উপরে যেতে চায় তাহলে সমস্যা কোথায়? অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা জীবন কাটায় তা সর্বজনস্বীকৃত সেটা হয়তো শিক্ষকরা মেনেই নিয়েছে কিন্তু বর্তমানে চলছে এই পেশাটাকে খাটো করে বড় হওয়ার প্রতিযোগিতা।ডিপিএড চলমান থাকায় সেখানে ও দেখছি শিক্ষকদের প্রতি ইন্সট্রাক্টর স্যারদের করুনা।

প্রস্তুতি নেন যাতে অন্য পেশায় চলে যাওয়া যায়!আশ্চর্যের বিষয় হলো আমার প্রশিক্ষকও চায় আমি যেন অন্য পেশায় চলে যাই শিক্ষকতা যেন বাস স্টপেজ! এরকম হাজারো সমস্যা যার সবগুলো বলে আরও বেশি অবহেলিত হতে চাই না। মাননীয় মন্ত্রী আপনিই বলেন এগুলো জেনে কেন একজন মেধাবী উচ্চ শিক্ষিত তরুণ এ পেশায় পছন্দ করে আসবে? আসলে স্টপেজ হিসেবে ব্যাবহার করে চলে যায় আর যারা সংসার বা পরিবারের কারনে থেকে যেতে বাধ্য হয় তারাও হতাশা নিয়ে বাকিটা সময় কাটিয়ে দেয়।

আমার ধারণা বর্তমানে এ পেশায় ঘটনা চক্রে শিক্ষকের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি, খুব অল্প সংখ্যক আছে ভালোবেসে শিক্ষক তাদেরো অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে না। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন এমন উদ্যোগ নিন যাতে ঘঘটনাচক্রে শিক্ষকের পরিমাণ যেন দিনে দিনে আর বাড়তে না পারে বরং প্রথম পছন্দ হিসেবেই শিক্ষকতা করে।আমের বীজ লাগিয়ে পরিচর্যা যত ভালোই করা হোক না কেন আঙ্গুর পাওয়ার আশা করা যাবে না। আমার কথায় কোন স্যার মন খারাপ করলে ক্ষমা করবেন বিভাগীয় প্রার্থীতা হারানোর ভয়ে সবকিছু এলোমেলো মনে হচ্ছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ