Saturday -
  • 0
Showmique Hasan Rakib
Posted at 08/08/2020 10:12:am

ডিপ্রেশন টু মিস্টেক এন্ড মিস্টেক টু সুইসাইড

ডিপ্রেশন টু মিস্টেক এন্ড মিস্টেক টু সুইসাইড

মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমি নিজেও জানি না, তবে সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, আমরা সমাজে একত্রে বসবাস করি, একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসি, সমাজ ছাড়া আমরা নিজেদের অস্থিত্ব কল্পনা করতে পারি না, তাই আমরা সামাজিক জীব। সমাজে একত্রে বসবাস করার অনেক উপকারিতা থাকলেও, এই সমাজ ও মাঝে মাঝে  আমাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে যার পরিমাণ খুবই নগণ্য। একথায় বলতে গেলে প্রতিটা বিষয়বস্তুর দুইটা দিক থাকে, একটা হলো ভালো দিক আরেকটা হলো মন্দ দিক। ভালো দিকটা সম্পর্কে প্রায় আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত এর ফল উপভোগ করছি। কিন্তু আজকে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হলো সমাজের সেই দিকটা,  যেটা সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষই খুব কম জানেন,  তবে এমনটা কখনো নয়, যে আমি সব জানি কিংবা বেশি জানি।তবে হ্যাঁ, এটা সত্য যে, ঐ মন্দ দিক টা নিয়ে লিখার মত কিছু জানি, আর সেই কিছু টা জানার তাগিদেই লিখতে বসা।


প্রবাদে আছে, মানুষ মাত্রই ভুল। আর ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী,  সৃষ্টি কর্তা আমাদের ভুল করার জন্য এবং তাঁর কাছে ক্ষমার চাওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটা ভুলের দুইটা দিক থাকে, একটা পজিটিভ আরেকটা নেগেটিভ। আর এই দিক গুলো নির্ভর করে আপনার চিন্তা ধারার উপর,  আপনি আপনার ভুলটাকে কিভাবে নিবেন? আপনি যদি সবকিছু পজিটিভলি নিতে পারেন তাহলে সেটা খুব ভালো। তবে আমার কখনো মনে হয় না, মানুষ তার সব ভুলগুলো পজিটিভলি নেওয়ার ক্ষমতা রাখে! যে ভুলগুলোকে পজিটিভলি নেওয়ার ক্ষমতা নেই বা পজিটিভলি নিতে পারে না, সেগুলো থেকেই নেগেটিভ চিন্তার শুরু, আর নেগেটিভ চিন্তা মানেই দুশ্চিন্তা। আর দুশ্চিন্তা মানেই, এখন কি হবে? আমি কি করবো? কেন এমন হলো? লোকে কি বলবে? আমার দ্বারা কি কখনোই ভালো কিছু হবে না? ইত্যাদি.…. এরকম হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরে! তবে অধিকাংশ লোকেই অন্যান্য চিন্তার চেয়ে অর্থ চিন্তায় বেশি মগ্ন! দরিদ্রের চিন্তা হলো কিভাবে দু-বেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকা যায়? মধ্যবিত্তের চিন্তা হলো দু-বেলা  দুমুঠো খেয়ে পরে কিভাবে সভ্য সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যায়? আর বিত্তবানদের চিন্তা হলো কিভাবে আরো বিত্তশালী হওয়া যায়? 


জীবনে চলার পথে আমরা ছোট-বড় ভুল জেনে- না জেনে করে থাকি। ভুলের আকার-পদ্ধতি যেমনেই হোক,  প্রতিটা ভুলের ফল হিসেবে দুশ্চিন্তা অবধারিত। সত্যি বলতে,  প্রকৃতি কখনো কাউকে ছেড়ে কথা বলে না, সে আপনাকে আপনার ভালো অথবা মন্দ সব কর্মের ফল ভুগ করিয়ে ছাড়বে। 


আপনি জানেন কি না, জানি না। তবে আমি সর্বদাই ভুল করা মাঝে একটা অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পাই। আপনি ভুল করার সময় লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, আপনি ও আনন্দ পেয়েছেন ভুল করার মাঝে। আর সেই ক্ষণিকের আনন্দ লাভ করার জন্যই আপনি আমি ভুল করে থাকি। তবে যখনই আপনি আপনার ভুল গুলো বুঝতে পারবেন,  তখনই খারাপ লাগা শুরু হবে, আর খারাপ লাগাটা দীর্ঘ হলে আপনি ডিপ্রেশনে পড়ে যাবেন। 


 আর আধুনিক শিক্ষিত সমাজের বেশির ভাগ লোকেই ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। আর অশিক্ষিতরা ডিপ্রেশনে ভুগেন না, ব্যাপারটা এমন না, আসলে তারা ডিপ্রেশন কি বুঝেন না, তাই হয়তো ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন না। ডিপ্রেশন বুঝার সাথে আর না বুঝার সাথে ডিপ্রেশন ভুগার পার্থক্য টা একটু জীবনাংশ বললে বুঝতে পারবেন, আমি মাধ্যমিক পরীক্ষা ১ম বার দিয়ে ভালো রেজাল্ট(৩.৩৩) করতে না পারায়,  ইম্প্রুভ দিয়েছিলাম, আর এর মধ্যবর্তী সময়টা খুব বিষণ্ণতায় কেটেছিলো কিন্তু কখনো ডিপ্রেশনে ভুগি নাই, কারণ তখনো ডিপ্রেশন কি জানতাম না, ডিপ্রেশনে ভুগা সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিলো যেদিন উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষের সমাজ বিজ্ঞান ক্লাসের শিক্ষক এমিল ডুর্খেইম এর ''The Suicide'' গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করা সাপেক্ষে ডিপ্রেশন কি বুঝিয়ে ছিলেন,  সেদিনের পর থেকে মনে বিষণ্ণতা দেখা দিলে লোক কে বলতাম ডিপ্রেশনে ভুগছি।


তাছাড়া অশিক্ষিত সমাজের বেশির ভাগ লোকেই একটু কম বুঝে, অগভীর চিন্তা ভাবনা করে, তাদের জীবন যাত্রা সাধারণত সহজ সরল হয়ে থাকে। আর অশিক্ষিত সমাজের বেশির লোকেই সারাদিন হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করে, যার ফলে তারা খুব বেশি রাত জাগতে পারেন না, রাতের শুরুতেই তারা গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে যান। রাত যত কম জাগবেন তত কম ডিপ্রেশনে ভুগবেন। কেননা রাতের নির্জনতা বাড়ার সাথে দুশ্চিন্তা গুলিও মাথায় ভর করতে থাকে। যখন আপনি একা থাকবেন পারলে একটু ঘুমানো চেষ্টা করবেন,  তা না'হলে ছোট খাটো কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করবেন। তবেই ডিপ্রেশন মুক্ত থাকতে পারবেন। 


 আর শিক্ষিত মানুষেরা সব কিছুই একটু বেশি বুঝেন আর তাদের চিন্তা ভাবনাটাও একটু গভীর টাইপের হয়ে থাকে। তাদের মাথায় হাজার রকমের চিন্তা ঘুরতে থাকে, তাই তারা চাইলেও সন্ধ্যা রাতে ঘুমাতে পারেন না। তাদের ঘুমের শুরু হয় শেষ রাতে। আর আমার মত শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাতা খুলে পড়তে বসলেই চোখে নামে গভীর ঘুম,  যেনো বইয়ের প্রতিটা পাতায় ঘুমের ঔষধ মিশানো। সবসময় ভাবতাম পরীক্ষা শেষ হলে ইচ্ছে মত ঘুমাবো, কিন্তু পরীক্ষা শেষ হলে ঘুম যেন তার মামার বাড়ি চলে যায়। পড়ার প্রেসার ও নাই, চোখে ঘুম ও নাই।  কি এক অদ্ভুত সম্পর্ক বই পড়া আর ঘুমের মধ্যে! তাই বলি কি, ঘুম না আসলে বই পড়ুন তাহলেই ঘুম চলে আসবে। যেখানে বইয়ের পাতায় বিনামূল্যে ঘুম পাওয়া যায়,  সেখানে টাকা দিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট কিনে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার প্রয়োজন?


 এবার আসুন জেনে নেই, ডিপ্রেশনের কি কি কারণ রয়েছে: ১. অভাব -অনটন, ২. শিক্ষা,  ব্যবসা - বাণিজ্য ও প্রেমের ব্যর্থতা, ৩. পারিবারিক অশান্তি, ৪. কুৎসিত চেহেরা, ৫. যৌন সমস্যা, ৬. নিঃসঙ্গতা, ৭. শারীরিক অক্ষমতা, ৮. বেকারত্ব ও অন্যান্য ঝামেলা ইত্যাদি। 


আমাদের সমাজের এমন কিছু মানুষ আছে,  যারা তাদের সমস্যা কারো সাথে শেয়ার করে না, নিজের মাঝে চেপে রাখে, নির্জনতায় ডিপ্রেশনে ভুগে আর কাদেঁ। আর এসব ডিপ্রেশনের পিছনে রয়েছে জানা অজানা অনেক ভুল। ডিপ্রেশনে ভুগা একজন মানুষের কিছু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকে, যা একটু গম্ভীর ভাবে খেয়াল করলেই বুঝা যায় কে ডিপ্রেশন ভুগছেন।  ডিপ্রেশনে ভুগা ব্যক্তি হুট করেই আনমনা হয়ে যাবেন, কারো আনন্দে তিনি আনন্দিত না হয়ে, আরো বিষণ্ণতায় ভুগবেন। তাকে একটা কাজ দিলে সে ভুলে যাবে, একা থাকতে ভালো লাগবে। ডিপ্রেশন একটা মানসিক রোগ বা যন্ত্রণা সেটা আমিও মানি কিন্তু এটা মানতে পারছি বা পারবো না যে ডিপ্রেশন বংশগত রোগ। আমার সমস্যা বা ভুল কিংবা অভাব থাকলে আমি দুশ্চিন্তা করবো, আর যার দুশ্চিন্তা নাই সে করবে না। তাতে বংশের কি আসে যায়?


জীবনে কখনো ডিপ্রেশনে না ভুগলে এর যন্ত্রণা যে কি ভয়াবহ তা বুঝতে পারবেন না। তবে বর্তমানে এরকম ৫০+ বয়সের মানুষ লাখে ১ টা পাবো কিনা জানিনা যে, সে জীবনে কখনো ডিপ্রেশনে ভুগে নাই। 


ডিপ্রেশনে ভুগার মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেলে একজন মানুষ তার স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে ফেলে। নিজের প্রতি ভীষণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়, নিজের জীবনের প্রতি মায়া ভালোবাসা হারিয়ে উদাসীন জীবন যাপন করে। ডিপ্রেশনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে আধুনিক যুব সমাজ মাদক-নেশা, মাস্টারবেট,  ঘুমের ঔষধ, পর্নোগ্রাফি দেখা, অনলাইনে ১৮+ গল্প পড়া ইত্যাদি খারাপ পন্থা বেঁচে নিচ্ছে। যা ডিপ্রেশনের মাত্রাকে আরো ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যায়। অথচ এই ডিপ্রেশন থেকে বাঁচার জন্য কয়েকটা সহজ পন্থা আছে। যেমন নিয়মিত সালাত আদায়, সবসময় কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা, বেশি রাত না জেগে সকাল সকাল ঘুমিয়ে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠা, বিকেল বেলা নির্মল হাওয়ায় হাটতে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে মিলামিশা করা তবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি না, প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করে ফেলা, কোনো কাজ কালকের জন্য ফেলে না রাখা, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা ইত্যাদি। আমার বিশ্বাস এইগুলো মেনে চললে কেউ ডিপ্রেশনে ভুগবে না।


 বর্তমানে আত্মহত্যার একমাত্র কারণ হলো ডিপ্রেশন।  ডিপ্রেশনের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার ফলই হলো আত্মহত্যা। আত্মহত্যা কারী বা আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের যন্ত্রণা   বুঝবে না যে তারা কতটুকু যন্ত্রণা থেকেই মুক্তি পাওয়ার জন্যই জীবনের সবচেয়ে ভুল ও ভয়ংকর সিদ্ধান্ত টা নেন,  বিশ বছরের জীবনের জীবনে আমিও ভুগেছি ডিপ্রেশনে ২-৩ টা বছর,  ইচ্ছে হয়ছিলো কয়েকবার আত্মহত্যা করি, হয়তো ধর্ম বিশ্বাস (আত্মহত্যা কারী সারাজীবন জাহান্নামে থাকবে) আর আত্মবিনাশের সাহসটাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে না পারার কারণে বেঁচে আছি। 


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে, ছেলে - মেয়েরা অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে, শখ করে ছবি তুলে, ভিডিও করে পরে মত বিরোধ হলে ব্ল্যাক মেইলের শিকার হয়  বা ভাইরাল হয়  এইজন্যও সমাজের লোকজন,  পরিবার,  বন্ধু-বান্ধবের কাছে হেয় হওয়ার কারণে ডিপ্রেশনে পড়ে যায়, এই ডিপ্রেশনে বেশির ভাগ সময় মেয়েরা পড়ে। যে নারী জাতির অল্পতেই কেঁদে দেওয়ার অভ্যাস, সেই লজ্জাবতী নারী জাতির এই ডিপ্রেশন চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ বেশির ভাগ নারীই এই কারণে আত্মহত্যা(সুইসাইড) করে থাকে। তাছাড়া অনেকে বিভিন্ন পারিবারিক ঝামেলায় ডিপ্রেশনে পড়ে যায়, আর প্রাত্যাহিক পারিবারিক ঝামেলা ডিপ্রেশনটাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়,  আর মুক্তির পথ হিসেবে আত্মহত্যা বেঁচে নেয়। 


আত্মহত্যা আমাদের সমাজের একটি ভয়াবহ অপসংস্কৃতি,  যার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী৷ আমরা নিজেরা সঠিক ভাবে জীবন যাপন করলে মনে হয় না কেউ ডিপ্রেশনে ভুগবো। শুধু নিজে সচেতন থাকলে চলবে না,  চারপাশের মানুষ জনকে সচেতন করতে হবে, এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন কেউ ডিপ্রেশনে না ভুগে। কেউ ডিপ্রেশনে ভুগলে তার প্রতি সদয় ব্যবহার করতে হবে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসী ও বেচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগাতে হবে। তাকে সবসময় ম্যান্টালি সাপোর্ট দিতে হবে। 




''চাইনা আত্মহত্যায় ঝরে যাক আর কোনো প্রাণ,


সবাই বাঁচুক,  তবেই বাঁচবে দেশের মান"





শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ