About Us
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Md. Asraful Islam - (Mymensingh)
প্রকাশ ১৫/০৯/২০২১ ১২:৩০এ এম

বেড়েই চলেছে পরকীয়ার দৌরাত্ম্য

বেড়েই চলেছে পরকীয়ার দৌরাত্ম্য Ad Banner
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো পরকীয়া। পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাই পরকীয়া নামক বিষানলে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ, হাজারো পরিবার। সারা বিশ্বে এই সমস্যা দিনদিন বেড়েই চলছে।

দাম্পত্য বা সাংসারিক জীবনে পরকীয়া নামক অসামাজিক কার্যকলাপ এনে দেয় অভিশাপ। সুখের সংসারে আগুন দিয়ে সুখ নামক সোনার হরিণকে বিদায় দিতে এটি অনস্বীকার্য ভূমিকা পালনে ব্যস্ত। যারা এ বিপর্যয়ের থাবার নিচে চাপা পড়ে যায় তাদের লোকলজ্জা, ভয় সবকিছু হ্রাস পেতে থাকে।

এরা নিজেরা মাতাল হয়ে হাওয়ায় ভাসতে থাকে। কারো ভালোকথা ভালো লাগে না। যারা সুপরামর্শ দেয় তাদেরকে শত্রু মনে হয়। যাদের স্ত্রী বা স্বামী এ অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে তারা জানেন এর ভয়াবহতা কতটুকু জঘণ্য হতে পারে।

স্ত্রী বা স্বামী যখন এ কাজে লিপ্ত হয়ে যায় তখন নিজের বিবাহিত জীবনসঙ্গী-সঙ্গিনীর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। অনেককেই দেখা যায় সমাজ, পরিবার, সন্তানদের দিকে চেয়ে স্বামী বা স্ত্রীর নিষিদ্ধ প্রণয়লীলা নীরবে সব সহ্য করে যান। আবার অনেকেই সহ্য করতে না পেরে বেছে নেন আত্মহনের পথ।

উইকিপিডিয়ার মতে পরকীয়া হলো, "বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ড।" অর্থাৎ বিবাহিত কোনো নারী বা পুরুষের পর পুরুষ বা পর নারীর সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক, শারীরিক সম্পর্কই হলো পরকীয়া। আমাদের সামনে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো পরকীয়ার ঘটনার মধ্যে দুটো ঘটনার দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা যাক।

ঘটনা-১:- বরগুণায় রিফাত হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সবাই জানি। এইযে এত বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, এতগুলো জীবন শেষ হয়ে যেতে বসেছে, এতগুলো পরিবারে অশান্তির আগুন জ্বলছে এর পেছনে দায়ী কে? নিশ্চয়ই এককথায় উত্তর দিবেন পরকীয়া।

ঘটনা-২:- "ভাল থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে" ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রামের তরুণ ডাক্তার মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। অনেক চেষ্টা করেও যখন নিজের স্ত্রীকে শোধরাতে পারলেন না তখন বেছে নিলেন আত্মহননের পথ। একজন তরুণ ডাক্তারকে আমরা হারালাম।

এর পেছনে দায়ী কে? এটারও উত্তর হচ্ছে পরকীয়া। অহরহ এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে যেগুলোর হেডলাইন কিছুটা এরকম হয় "স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী-সন্তান"।

বিভিন্নদেশে পরকীয়া নিয়ে জরিপ চালানো হলেও জানামতে আমাদের দেশে কোনো সংস্থা বা সংগঠন পরকীয়া নিয়ে জরিপ চালায় বলে মনে হয় না। এ মহামারীর কারণে দিন দিন বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পিতা-মাতার এসব নিষিদ্ধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার ফলে সন্তানের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অনেক বেশি। তারা মানসিক ভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না।

বাংলাদেশে পরকীয়া সংক্রান্ত আইনের ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে যে "কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি অন্য কোন বিবাহিত নারীর সাথে জেনেশুনে যৌন সম্পর্ক করে তাহলে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে।"এ ক্ষেত্রে সেই পুরুষটির পাঁচ বছরের কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান আছে।

তবে যে নারীর সাথে ব্যভিচার করা হয়েছে - তার ক্ষেত্রে আইনে কোন শাস্তির বিধান নেই, ব্যভিচারকারী নারী ও পুরুষ উভয়ের শাস্তির কথাও বলা নেই। পরকীয়া নিরসনে এটি কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করছে তা দৃশ্যমান।

বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন। এই সম্পর্ক সর্বদা মধুর নাও হতে পারে। দীর্ঘপথ চলার পথে জীবনসঙ্গীর সাথে যেকোনো ব্যাপার নিয়ে মনোমালিন্য বা ছোটখাট ঝগড়াঝাঁটি হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। তবে সেই সমস্যাটাকে অল্পতেই সমাধান না করে বরঞ্চ টেনে লম্বা করাটা অস্বাভাবিক।

এতে তৃতীয় পক্ষ এসে নাক গলানোর সুযোগ পায় এবং শয়তানের চক্রান্ত শুরু হয়ে যায়। তার দোষ-ত্রুটি গুলো বড় হয়ে চোখে ধরা পড়ে। এসব থেকেই একসময় পরকীয়ার মত সমস্যাগুলো জন্ম নেয়। সুতরাং নিজেকে সতর্ক রাখার এবং একে অপরকে ছাড় দেওয়ার মনমানসিকতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

মারাত্মক ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে এই জঘণ্য অপরাধটি। যার ফলে সমাজে শান্তি-সৌন্দর্যের বিশাল অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দেশে পরকীয়ার মত মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এর কুফল নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির বহুল ব্যবহার হচ্ছে।

এর ফলে এই চোরাবালিতে পা দেওয়া অতি সহজ হয়ে দাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অবাধ অপব্যবহারের ফলে এধরণের অপরাধকর্ম অহরহ ঘটেই চলেছে। দেশে যাতে আর কোনো পরিবারে এই জঘণ্য ব্যাধিটি আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য যোগোযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করতে হবে।

যেসমস্ত নাটক বা সিরিয়াল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব অপরাধের দিকে উস্কানি দিয়ে চলেছে সেগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া সবার মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। একে সমূলে উৎখাত করার জন্য তরুণ ও যুবসমাজকে সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকতে হবে।

যদি কেউ এধরণের কর্মকান্ডে জড়িয়েই পড়েন নিজেকে এর কুফল এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে বারবার সচেতন করতে হবে। পরিবারের স্বার্থে হলেও নিজেকে ফিরানোর চেষ্টা করতে হবে। এধরণের জঘণ্য কাজ গুলো থেকে বাঁচতে আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ