khairul Khandaker - (Tangail)
প্রকাশ ১১/০৯/২০২১ ০৬:৫৬পি এম

টাঙ্গাইলে ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

টাঙ্গাইলে ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
টাঙ্গাইলে ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলায় রিনা বেগম (২৬) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। রিনা বেগম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের রাঙাচিরা গ্রামের ইসরাইল মিয়ার স্ত্রী।

নিহত রিনার স্বামী ইসরাইল মিয়া জানান, আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে দিকে শহরের অবস্থিত ক্লিনিক নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস সেন্টারে রিনা বেগমকে ভর্তি করা হয় সেখানকার কর্তব্যরত গাইনী ডাক্তার ডা. সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে অস্ত্রপাচারের (সিজার) মাধ্যমে রিনা বেগম একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

সিজার শেষে রিনা কে অটি থেকে কেবিনে দেওয়া হয়। কেবিনে নেয়ার পর থেকে রাতে প্রচুর পরিমাণ রক্ত ঝড়তে থাকে। রক্ত ঝড়তে দেখে ক্লিনিকের নার্সকে জানালে সে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারকে অবগত করে।

তাদের একাধিকবার ফোন করার পরও তারা আসেননি। পরে সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে রিনা বেগমকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়ার সময় মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সিজারের পর ১০ ঘণ্টা রক্তক্ষরণে পর আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয় । যারা আমার মেয়েকে এতিম করলো আমি ওই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের শাস্তি দাবি করছি।

ক্লিনিকের দায়িত্ব প্রাপ্ত নার্স অনামিকা সরকার জানান, আমি সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছি; রাতে ও গতকাল কি হয়েছে আমি তা জানি না।

নিহত রিনা বেগমের মা চায়না বেগম জানান, সিজার ভালভাবে করা হয়নি। সিজার করার পর পরই পেট ফুলতে থাকে এবং পেটের সেলাইয়ের দুই পাশ দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে। রক্ত ঝড়তে দেখে আমরা ক্লিনিকে থাকা নার্স কে বলি। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

আমার মেয়ে বারবার ডাক্তারের কথা বলেছে; কিন্তু ডাক্তার আসেনি। ডাক্তারের অবহেলায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে যারা সন্তানহারা করলো আমি তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিক্যাল সেন্টারের রিসিপসনিষ্ট সাদিয়া আফরিন জানান, ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজার বাহিরে আছে; তারা কখন ফিরবে তাও জানি না। তাদের ফোন নম্বরও অনুমতি ছাড়া দেয়া যাবে না।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, আমি খুবই ব্যস্ত আছি; পরে কথা বলবো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক সাজিয়া আফরিনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। এই বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ