Feedback

সাহিত্য

আহমদ ছফা’র দর্শনই ছফাকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে

আহমদ ছফা’র দর্শনই ছফাকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে
August 05
08:21pm
2020
রহমতুল্লাহ লিখন
Paba, Rajshahi:
Eye News BD App PlayStore

আহমদ ছফাকে নিয়ে লিখতে শুরু করলে লেখার ক্ষেত্র দিনকে দিন প্রচণ্ডতা লাভ করে। কারণ হল তাঁর চিন্তার গভীরতা ক্রমশ প্রাসঙ্গিক এবং অতলস্পর্শ হয়ে উঠে। আজ লেখার বিষয়বস্তু হল আহমদ ছফার দর্শন । সেটাকে শিক্ষা ক্ষেত্রের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়াসে থাকব। কারণ ছোট খাট এ ধরনের নিবন্ধে তাঁর দার্শনিক ব্যপ্তি পুর্নাঙ্গরুপে প্রাকাশ করে সম্ভব নয়, প্রকাশ করার আস্পর্ধা কারাও অপরাধ বলে আমি মনে করি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে ছফাকে নিয়ে লিখতে হবে কেন? এই সাওয়ালের জাওয়াব হল তিনি তাঁর সমসাময়িক কালকে অতিক্রম করেছেন, বলতে গেলে তাঁর কালকে অতিক্রম করেছেন, জয় করেছেন। বিভিন্ন চিন্তাবিদের মত অনুসারে বলা যায়, একজন মানুষ তাঁর কালকে জয় করেন বা অমর হন দুইটি কারণে; প্রথমটি হল যখন সে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে, আর দ্বিতীয় হল নিজের সময় ও সংকটকে উপলব্ধি করে তা প্রকাশ করে থাকে। আহমদ ছফার কাল জয়ের বিবৃতি এই দুই কারণের খাপে খাপে মিলে যায়। হেতু হিসেবে বলা যায় তাঁর লেখাগুলো সাবলিলভাবেই দূরদর্শী এবং সদা প্রাসঙ্গিক। তাঁর বক্তব্যগুলো আজও আগুনের গোলার মত তেজদ্দীপ্ত ও সচল।

আসা যাক, ছফার শিক্ষা ক্ষেত্রের দার্শনিক ভাবনাগুলো নিয়ে। তিনি আমাদের স্বধীনতা উত্তর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যপকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। যদিও সব দেশ প্রেমিকেরই এমন উদ্বিগ্নতা থাকা জরুরী। কিন্তু ছফা উপলব্ধি করেছিলেন যে আমাদের দেশের ধনিক ও শাসক শ্রেনির মাঝে তেমন কোন উদ্বিগ্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যা আজ প্রকটভাবে আমাদের সামনে প্রতিয়মান। তাঁর মতে মধ্যবিত্ত যে শ্রেনি স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে জন্মলাভ করেছে তাদের জাতীয়তাবাদ ছিল দোদুল্যমান। এই দোদুল্যমান অবস্থায়ই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য় পরবর্তী সময়ে দারুণভাবে ব্যাহত করেছে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নির্জীব আচরনের ফলে ভাষা আন্দোলনের মাধম্যে যে অঙ্গিকারের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল তা চুড়ান্তভাবে পদদলিত হচ্ছে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শিক্ষার্থীদের বিচারশীল চিন্তাশীল করে তোলার জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষাদান অত্যন্ত জরুরি।

ব্যাঙের ছাতার মত স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠায় তিনি মহা বিরক্ত ছিলেন। তিনি এই ট্রেন্ডকে মনে করতেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ওয়াদার বরখেলাপ। তাঁর মতে আইয়ুব আমল থেকেই এই সর্বনাশের সুত্রপাত। আইয়ুব আমলে আমাদের দেশে যে মধ্যবিত্ত শ্রেনিটা গড়ে উঠেছিল তারাই ভাবতে শুরু করেন ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাকে মর্যাদার প্রতিভূ। তাদের এই ভাবনাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ক্ষতিটা ডেকে নিয়ে আসে। ছফা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন বিদেশী বা পশ্চিমা শিক্ষা আদৌতে আমাদের কোন কাজে আসে কিনা সেই প্রসঙ্গে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে ছফা হয়ত পাশ্চাত্য বিরোধী। করজোড়ে তাদের বলতে চাই তিনি পাশ্চাত্যবিরধী ছিলেন না। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি  হল মাতৃভাষায় বদলিয়ে বা রূপান্তরিত করে আনতে হবে পাশ্চাত্য দরকারি জ্ঞানটুকুকে যা তাদের সাফল্যের পরিচায়ক। মোদ্দা কথা, গবেষণার মাধ্যম হতে হবে বাংলা। জ্ঞানের সামাজিকীকরণের প্রতি তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

তথাকথিত সিভিল সোসাইটির প্রতি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে সে এই তথাকথিত সিভিলদের প্রতি বিদ্রোহ না করলে স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য মাটি হবে। কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তাদের দাস্যমনোভাব। এই দাস্যমনোভাব ত্যাগ করার প্রতি জোড় দিয়েছেন। তাঁর চিন্তা ভাবনার গভীরতা এতটাই প্রকট ছিল যে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে দেশকে গড়ে তুলতে হলে মনস্তাত্বিক কাঠামোর বিনির্মাণ একান্ত জরুরি। সেই ভাবনা হতেই সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। তাঁর মূল্যায়ন ছিল শিক্ষার মাধম্যই পারে একটি রাষ্ট্রের উন্নতি করতে।

আহমদ ছফাকে নিয়ে ভাবাবার বা তাঁর দর্শন নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা এখানেই বিদ্যমান। তা হল সমসাময়িক যে জাতিগত সামাজিক বিপর্যয় তাঁর ইঙ্গিত দিতে তিনি সমর্থ হয়েছিলেন তাঁর সময়ই। আমাদের শিক্ষাখাতে যে মৌলিক দুর্গতি আসবে তাঁর কারণও বাতলে দিয়েছিলেন সেই সময়েই। পাশ্চাত্য নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, বলতে গেলে প্রেক্ষাপটকে নিয়ে গবেষণা না করেই অন্ধ পদলেহনের সাথে পুঁজিবাদী ভাবনাকে আশ্রয় প্রশ্রয় ও আলু পটলের সাথে সার্টিফিকেটের পার্থক্য করতে না পারার যে ব্যর্থতা, তাই আমাদের এই ভিত্তিহীন কুলাঙ্গার শিক্ষাকাঠামোর জন্য দায়ী।

ছফার দুরদর্শিতা এখানেই যে তিনি কারণ বয়ানে সীমাবদ্ধ থাকেন নাই বরং উত্তরণের পথের দিশাও দেখিয়েছেন। আর তা হল শিক্ষা অর্জনের মৌলিকতায় ফেরত যেতে হবে । সাথে সাথে মাতৃভাষায় জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে সৃষ্টি করতে হবে সর্বস্তর ব্যাপিয়া। তাঁর শিক্ষা ক্ষেত্রে দর্শন এর যে সার্থকতা এখানেই সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

ছফার সৃষ্টিকর্ম, ভাবনা চিন্তার বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা এখন অতি আবশ্য়ক হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে যে তা হচ্ছে না একেবারেই তা কিন্তু নয়। তবে নীতিনির্ধারক  মহলের আজব ভাবে তাঁর বিষয়ে নিরবতা এই গবেষণার গতিকে বাঁধা দান করে চলেছে। নিজেদের স্বার্থেই ছফাকে লালন করতে হবে। তাঁর চিন্তার শানে বিবেক ও বুদ্ধিকে শাণিত করতে হবে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই।পরিশেষে বলা যায় যে, আহমদ ছফাকে নিছকই সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবী হিসাবে মনে করলে ভূল হবে। তিনি হলেন একটি ঝড় যা এখনও চলমান। এই ঝড়ের ভিতর দিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ,রাষ্ট্র যাই যাতায়াত করুক না কেন তারই ভেঙ্গেচূড়ে দরকরি মনস্তাত্বিক পরিবর্তন হবেই। কারণ বিপ্লবে মুক্তি আসে সবখানেই। 

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

বিশ্বাসের উপর ভর করে টিকে থাকে বৈবাহিক সম্পর্কঃ  শ্রাবন্তীর স্বামী রোশন

বিশ্বাসের উপর ভর করে টিকে থাকে বৈবাহিক সম্পর্কঃ শ্রাবন্তীর স্বামী রোশন

হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আহত

হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আহত

সর্বশেষ

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর জন্য আজ মাঠে নামবে ভারত

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর জন্য আজ মাঠে নামবে ভারত

২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী

২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী

বিগবস তারকা পবিত্রা পুনিয়ার গোপন বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে এলো

বিগবস তারকা পবিত্রা পুনিয়ার গোপন বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে এলো

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়রের সাথে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়রের সাথে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ধুনট, প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান দিলেন সাংসদ হাবিব

ধুনট, প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান দিলেন সাংসদ হাবিব

সঙ্গীত শিল্পী বিজনের নতুন গান 'ভব সংসার'

সঙ্গীত শিল্পী বিজনের নতুন গান 'ভব সংসার'

সাতকানিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ আক্কাস সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির

সাতকানিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ আক্কাস সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির

আবার বাদ পড়লেন মেসি

আবার বাদ পড়লেন মেসি

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করার সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করার সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী

আগামী বছর ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করবে বাংলাদেশ

আগামী বছর ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করবে বাংলাদেশ

করোনাকালে দূরশিক্ষণ: ইন্টারনেটই নেই বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুলগামী শিশুর বাড়িতে

করোনাকালে দূরশিক্ষণ: ইন্টারনেটই নেই বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুলগামী শিশুর বাড়িতে

কালীগঞ্জে গণহত্যা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন

কালীগঞ্জে গণহত্যা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন

মুমিনা’ এটুকুই তার পরিচয়

মুমিনা’ এটুকুই তার পরিচয়

পৌর নির্বাচন: তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

পৌর নির্বাচন: তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা