Feedback

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুণাবলী জেনে অবাক হবেন!

লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুণাবলী জেনে অবাক হবেন!
August 03
09:54pm
2020
Tofael Islam
Dhaka, Dhaka:
Eye News BD App PlayStore

লজ্জাবতী। আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা। পরিচয় বর্ষজীবি গুল্ম আগাছা বা ঔষধি গাছ। কাণ্ড লতানো। শাখা প্রশাখায় ভরা। কাঁটাযুক্ত। লালচে রঙের। কিছুটা শক্ত। সহজে ভাঙ্গে না বরং পেচিয়ে টানলে ছিড়ে যায়। পাতা কয়েক জোড়া পাতা বিপ্রতীপভাবে থাকে। অনেকটা তেতুল পাতার মত। হাত ও পায়ের স্পর্শে লজ্জ্বাবতীর পাতা বুঁজে এসে বন্ধ হয়ে যায়। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। উপপত্র কাঁটায় ভরা।

লজ্জাবতী, স্থানীয়ভাবে একে লজ্জাবতী, সমঙ্গা, লজ্জালু, অঞ্জলিকারিকাও বলা হয়। এর পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়। এর অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। হাত-পা জ্বালা, অর্শ্ব, রক্তপিত্ত, যোনির ক্ষত, নাড়ি সরে আসায়, আঁধারযোনি ক্ষতে, আমাশয়, দমকা ভেদ, মল কাঠিন্যে, দাঁতের মাড়ি ক্ষতে, বগলে দুর্গন্ধ, কানের পুঁজে, গ্রন্থিবাত, কুজ্জতা বিভিন্ন রোগে লজ্জাবতী বেশ উপকারী।

আজ আমরা জেনে নেই কিভাবে লজ্জাবতী খেতে হবে— হাত-পা জ্বালা নিরাময়ে: হাত-পা জ্বালার সঙ্গে শরীরে জ্বর থাকে। এটা সাধারণত বর্ষা ও শরৎকালে পিত্ত বিকারে দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে লজ্জাবতীর গাছ মূল পাতা ১০ গ্রাম ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সেবন করলে উপকারে লাগে।

অর্শ্ব রোগ: অর্শ্বের বলিতে জ্বালা বেশি। ঝাল না খেয়েও যেন সেই রকম যন্ত্রণা। তার সঙ্গে রক্তস্রাবও বেশি হতে থাকে। এক্ষেত্রে গাছে ও মূলে ১০ গ্রাম আন্দাজ এক কাপ দুধ ও তিন কাপ পানি এক সঙ্গে মিশিয়ে একত্রে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রত্যেক দিন সকাল-বিকেল দু’বার খেতে হবে। ছাগলের দুধ হলে ভাল হবে।

নাড়ি সরে আসা: বহু প্রসূতি সন্তান প্রসবের সময় ধাত্রীর অসাবধানতায় নাড়ি সরে যায়, উঁচু হয়ে বসতে গেলে অস্বস্তিবোধ করে। এক্ষেত্রে লজ্জাবতীর ১০ গ্রাম আন্দাজ গাছপাতা চার কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে এটা প্রতিদিন সকাল-বিকেল দু’বার খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

আমাশয়: লজ্জাবতীর ডাঁটা পাতা মিলিয়ে ১০ গ্রাম সিদ্ধ করে ছেঁকে খেতে হবে। আর যাদের আমযুক্ত গাঁজলা দাস্ত হয়, তারা শুধু পাঁচ বা ছয় গ্রাম সিদ্ধ করে ছেঁকে ওই পানি খেলে উপকার পাবেন।ঘামের দুর্গন্ধ দূরে: অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং পোশাকে হলদে দাগ লাগে। এক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীর মাখতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দূর হবে।

যৌনি ক্ষতে: যে কোন কারনে যনিপথে ক্ষত হলে, প্রথমিক স্তরে মাঝে মাঝে অথবা প্রায় রোজই অল্প স্রাব চলতে থাকে, একটা আশটে গন্ধ, কখনো বা একটু লালচে স্রাব হয়, এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক সাবধান করে থাকেন, এটি পরিণামে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দুধ-জলে সিদ্ধ করা লজ্জাবতীর কাথ দিনে ২ বার খেলে এ রোগ উপশম হয়। একই সাথে লজ্জাবতীর ক্বাথ দিয়ে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষত সেরে যায়।

আঁধার যোনি ক্ষতে: এ বিচিত্র রোগটি কৃষ্ণপক্ষে বেড়ে যায় আর শুক্লপক্ষে শুকাতে থাকে । এ ক্ষতটি হয় সাধারণত হাটুর নিচে, আর না হয় কুঁচকির দু’ধারে। এক্ষেত্রে গাছও পাতা (মূল বাদে) ১০ গ্রাম শুধু জল দিয়ে ক্বাথ করে খেতে হয় এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে মুছতে হয়, ফলে অসুবিধা দুর হয়।

রমনে অতৃপ্তি: কয়েকটি সন্তান হওয়ার পর প্রসবদ্বারের শৈথিল্য হয়েছে , সেটার অনেকটা মেরামত করে দিয়ে থাকে এ লজ্জাবতীর ক্বাথের ডুশ নেওয়ায়, আর গাছের পাতা সিদ্ধ ক্বাথ দিয়ে তৈরি তেলে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পিচুধারণ কারালে এছাড়া অন্ডকোষের পানি জমা সারাতে পাতার পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

আমাশয়: অনেকের আছে পুরানো আমাশয় । মল ত্যাগের বেগ হলে আর অপেক্ষা করতে পারে না । গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর আর হতে চায় না ।আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০ গ্রাম লজ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এ ক্বাথ খেলে তারা অবশ্যই উপকার পাবেন।

দুর্গন্ধ দুর করতে: অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীর মুছতে হবে বা লাগাতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দুর হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য: অনেকের মল গুলটে হয়ে যায়, বুলেটের মত কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই। এক্ষেত্রে মূল ৭ /৮ গ্রাম থেঁতো করে সিদ্ধ করতে হবে এবং ছেঁকে ঐ পানিটা খেতে হবে। তাহলে উপকার হবে।

All News Report

Add Rating:

5

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

ওমানে নোয়াখালীর তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

ওমানে নোয়াখালীর তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

সর্বশেষ

জেনে নিন কী কী গুণ রয়েছে গোলমরিচে

জেনে নিন কী কী গুণ রয়েছে গোলমরিচে

পাইকগাছায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ভিটা-বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি

পাইকগাছায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ভিটা-বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি

সিলেটে যা করবে ট্রাফিক পুলিশের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’

সিলেটে যা করবে ট্রাফিক পুলিশের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’

মারত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অক্সফোর্ডের টিকায়

মারত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অক্সফোর্ডের টিকায়

মিয়ানমারের সাত নাগরিক আটক, দুই লাখ আশি হাজার ইয়াবাসহ

মিয়ানমারের সাত নাগরিক আটক, দুই লাখ আশি হাজার ইয়াবাসহ

হিন্দি বলতে না পারায় সিনেমা থেকে বাদ দেন জন, তারই নায়িকা হয়ে বদলা নেন ক্যাটরিনা

হিন্দি বলতে না পারায় সিনেমা থেকে বাদ দেন জন, তারই নায়িকা হয়ে বদলা নেন ক্যাটরিনা

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

মস্তিষ্কে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইরাস, নাক দিয়ে

মস্তিষ্কে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইরাস, নাক দিয়ে

বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়ি নেই ইন্টারনেট

বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়ি নেই ইন্টারনেট

পদত্যাগ করবেন না জিদান

পদত্যাগ করবেন না জিদান

মহামারীতে বিশ্বজুড়ে হতদরিদ্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ : জাতিসংঘ

মহামারীতে বিশ্বজুড়ে হতদরিদ্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ : জাতিসংঘ

ডিসেম্বরে শৈত্য প্রবাহের আভাস

ডিসেম্বরে শৈত্য প্রবাহের আভাস

সোনার দাম আবার কমছে

সোনার দাম আবার কমছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ট্রলির ধাক্কায় নিহত ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ট্রলির ধাক্কায় নিহত ১

সুবর্ণা মোস্তফার ৬১ জন্মদিন আজ

সুবর্ণা মোস্তফার ৬১ জন্মদিন আজ