Feedback

সাহিত্য

বিদগ্ধ জননী: মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

বিদগ্ধ জননী: মোহাম্মদ তাজুল  ইসলাম
August 03
10:20am
2020
Mohammed Tajul Islam..
Naogaon Sadar, Naogaon:
Eye News BD App PlayStore
প্রথম দৃশ্য I

( এই নাটিকায়  " নদী " -কে  রূপক চরিত্রে অংকিত করে প্রকৃতি ও  প্রাণীকুলের শাশ্বত সেতুবন্ধন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।)

মাঝরাত ভরা নদী। উজান থেকে ভাটির দিকে স্রোত বয়ে চলেছে। পাল তোলা নায়ে স্রোতের অনুকূলে পালে হাওয়া ধরেছে। চারিদিক গভীর নিস্তব্ধতা , পূর্ণিমার জোছনায় গাঙ্গের নির্মল জলে নিশিনাথ হাসছে । বাঁধের উপর সারি সারি গাছগুলি মাথা নুয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন । দূরের গ্রামগুলি সাদা কুয়াশার চাদরে দিগন্তে মিশে গেছে । এমন সময় নৌকার গলুইয়ে বসা  হাল ধরা মাঝিকে উদাসীন দেখে নদী জিজ্ঞাসা করল।

নদীঃ - মাঝি ,কেমন আছো ভাই ? একা একা আপন মনে কি ভাবছো?
মাঝিঃ-(গভীর নিস্তব্ধতা ভাঙ্গাই সে কিছুটা আঁৎকে উঠল তারপর স্বাভাবিক হয়ে বলল) ভালোই আছি ভাই, কেবল সংসারের আপনজনদের কথা ভেবে মনটা খারাপ লাগছে।
নদীঃ-  তোমার সংসারে কে কে আছে ভাই ?
 মাঝিঃ-( শান্ত কন্ঠে) বিধবা মা, একমাত্র সন্তান, খোকন ও স্ত্রী। ঘর ছেড়েছি মাস পেরিয়ে গেল, অসুস্থ মা কেমন আছে জানিনা । ছেলের মুখখানি  আয়নায় ভাসছে, তাকে দেখবার জন্য প্রাণ টা ছটফট করছে।

নদীঃ- তাই উদাস মনে ওদিক তাকিয়ে হাল ধরে আছো । কিন্তু সাবধান মাঝি ! সামনে ত্রিবেণী, বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন । নাও - এর  গতি সামলিয়ে সঠিক গন্তব্যের দিকে হাল ধরতে ভুল করোনা ।
মাঝি ঃ- তোমাকে ধন্যবাদ ! তুমি আমায় সচেতন করলে, আমার ভ্রম ঘোচালে ! তোমাকে অনেক ধন্যবাদ !
ভাই নদী , তুমি  সব সময় অন্যের মঙ্গল কামনা করো ! সেবা ব্রত ই তোমার ধর্ম , তোমার মনে কি কোন দুঃখ নেই ? 
নদীঃ- দুঃখের কথা বলছ ? এ কথার উত্তর অন্য একদিন তোমাকে বলবো ,এখন যাই ।

ওই যে !  ওই  যে !  কে জানি আমার দিকে আসছে ,আমাকে কলঙ্কিত করতে আসছে ! আমাকে ওদিক যেতে হবে , তার সাথে কথা বলতে হবে ।
আজ বিদায় বন্ধু !  বিদায় !


 দ্বিতীয় দৃশ্য
নদীঃ (এক অজ্ঞাত কুলশীল নারীকে দেখে জিজ্ঞাসা করল) কে তুমি ? কেন এই গভীর রাতে এলোকেশে, পাগলিনী বেশে, গলায় কলস ঝুলে আমার কিনারে এসে দাঁড়িয়েছ ?
কুলশীল নারীঃ- আমি এক অপয়া নারী । আমি মরতে এসেছি,  তোমার গহনের ডুবে মরতে চাই ।
নদীঃ- কেন তুমি মরবে ? কি তোমার দুঃখ ? আর তোমার মৃত্যুতে আমি বা কেন কলঙ্কিত হতে যাবো ? 
কুলশীল নারীঃ  এত প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই । আমি মরতে চাই আর মৃত্যুতেই আমার সব দুঃখ  ঘুচবে  - এটাই আমার শেষ কথা । ( জোছোনার ছটা পাদপ পাতার ফাঁক দিয়ে মেয়েটির অঙ্গের উপর ঝরছিল ,  তার শুভ্র কায়ার অপরূপ সৌন্দর্য চারিদিক ছড়িয়ে পড়ছিল  -এ নিশ্চয়ই কোন  কুলীন বংশের দুলালী , সংসারের দুঃখ- কষ্ট সইতে না পেরে এ পথে পা বাড়িয়েছে ) ।

নদীঃ- মরতে চাও বুঝলাম কিন্তু কেন ? জানতে পারি কি এমন সিদ্ধান্তের কারণ ? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে , দেখি যদি আমি তোমার কোন উপকারে আসতে পারি ।
কুলশীল নারীঃ- জানি, তুমি খুব সদয় ! তুমি পরোপকারী ! সেবাই তোমার ধর্ম ! কিন্তু তোমার সেবা বা উপকার কোন কিছুই নেবার ইচ্ছা আমার নেই । আমাকে আমার পথে চলতে দাও । এ পথেই আমার মুক্তি , এ ছাড়া আমার কোন উপায় নেই !
নদীঃ- তবুও তোমাকে আমায় বলতেই হবে , কি তোমার যন্ত্রণা ? কি তোমার মনোবেদনা ? - এ আমার আকুল মিনতি !
কুলশীল নারীঃ- ঠিক আছে , এত করে তুমি যখন বলছ ! তবে শোনো , -  ঐ  যে , জোছনায় ধব ধব করছে মাথা জাগানো বড় বাড়িটা  ওটা আমার শ্বশুরালয় । বাবা বড় শখ করে ধনী পরিবারে আমাকে বিবাহ দিয়েছিল।


আমার বাবা একজন  বিদ্যালয় শিক্ষক । সংসারে আমরা দু ভাই -বোন ও মা- বাবা । বাবা একজন সৎ মানুষ , খুব সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করতেন । ভাই বোনদের মধ্যে আমি জ্যেষ্ঠ , কনিষ্ঠটি ভাই । বাবা যে বিদ্যালয়ে কর্মরত সে সেই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র । আমি S .S .C  পাস করে সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছি ।

হঠাৎ একদিন কয়েকজন আগন্তুক বাবার খোঁজে আমাদের বাড়িতে আসলো । বাবা তাদের বৈঠক খনায় বসতে দিলেন তারপর অনেক  আলাপচারিতা , আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তাদের একজন বললেন , রামভদ্রপুরের  ইমরুল কায়েস চৌধুরীর পুত্র কলেজ করিডোরে আপনার কন্যার দর্শন লাভ করেছে । সে আপনার কন্যার পাণিপ্রার্থী । বাবা তার কথায় কিছুটা আঁৎকে উঠলেন কিছু সময় কালক্ষেপণ করে বললেন, ছেলে কি করে ?
উত্তরে কলেজ পড়ুয়া ।

বাবা বললেনঃ- ছেলে কি নিজেই এ প্রস্তাব আপনাদের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠিয়েছে ?
আগুন্তকঃ-  না মশাই ! চৌধুরী সাহেবের ছেলে আমাদের পাঠান নি । ছেলে,  পিতার কাছে তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে । আর পিতা, চৌধুরি সাহেব নিজেই আপনার কন্যার সঙ্গে তাঁর পুত্রের বিবাহের পয়গাম আমাদের মাধ্যমে আপনার কাছে পাঠিয়েছে । জানেন তো চৌধুরী সাহেবের 200 মত বিঘা আবাদী জমি , বাঁশবাগান ,পুকুর পুসকুনি ইত্যাদি দিয়ে আড়াইশো ছাড়িয়ে যাবে । শহরে নিজস্ব ইমারত, ব্যবসা-বাণিজ্য তো আছেই । দু -দশ  গ্রামে তার সাথে টেক্কা দেওয়ার মতো ধনী ব্যক্তি একটিও নেই ।
এবার যদি আপনি সম্মতি দেন অর্থাৎ চৌধুরী সাহেবের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান তবে শুভ কাজ সম্পন্ন হতে বেশি সময় লাগবে না । মাস্টার সাহেব ভেবে দেখেন, সুযোগ জীবনে একবারই আসে ,বারবার আসে না।

তাছাড়া দেয়া- নেয়া বা যৌতুকের কথা ভাবছেন? চৌধুরী সাহেব আপনার কাছে দাবি করে কিছুই নেবেন না, খুশিমতো আপনি যা দেবেন তাতেই চলবে।
বাবা খুব সরল প্রকৃতির মানুষ অর্থলিপ্সা বা সম্পদের মোহ কোন কিছুতেই তিনি বিচলিত বা আকৃষ্ট হন না । এই গুণটা  বাবার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি । তাদের বক্তব্য দীর্ঘ সময় ধরে স্রবনান্তে শান্ত ও গম্ভীর কণ্ঠে বাবা বললেন, আপনাদের সব কথাই শুনলাম,সবই  ভালো কিন্তু আমি আমার মেয়েকে বিবাহ দিব না। সে সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে লেখাপড়া করবে। আর মনে কষ্ট নিবেন না এত বড় ধনী পরিবারে আমি মেয়েকে বিবাহ দিতে চাই না । তারা বাবার কথায় নিরাশ হয়ে পড়ল । তারপর শুভেচ্ছা বি_নিময় আনতে বাবা কথা না বাড়িয়ে প্রস্থান করলেন ।

নদীঃ-তোমার গল্প তো বেশ ভালই লাগছে, বল বল থামলে কেন ?
কুলশীল নারীঃ-  এটা গল্প নয়, কঠিন বাস্তবতা ,নিরেট সত্য ! আমার জীবনে ঘটে যাওয়া পঞ্জিভূত স্মৃতির বর্ণনা।
নদীঃ-  এখানে ইতি টানলে হয়তো আজকের এ অবস্থায় তোমাকে আমায় দেখতে হতো না ।
কুলশীল নারীঃ-  তবে বাঁকিঞটুকু বলি শোনো । এর বছরখানেক পর, একদিন চৌধুরী সাহেব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে নানান উপঢৌকন সহ বাবার সামনে এসে উপস্থিত হলেন - এবং পুত্রের সম্বন্ধের প্রস্তাবটি নিজেই পেশ করলেন। চৌধুরী সাহেবের প্রতিটি বাক্যে তার বন্ধুদের আকুণ্ঠ সমর্থন বারবার ধ্বনিত হতে লাগল । এক পর্যায়ে চৌধুরী সাহেব বাবার দু'হাত চেপে ধরে বললেন , ভাই বড় আশা করে নিজেই আপনার কাছে এসেছি দয়া করে আমাকে বিমুখ করবেন না । বাবা রাজি হয়ে গেলেন।

চৌধুরী সাহেবের আদরের পুত্রের সাথে আমার বিবাহ -কার্য সুসম্পন্ন হলো।
চৌধুরী সাহেব একজন সৎ মানুষ ,আজও সৎ কিন্তু তার কলঙ্গার পুত্র মাতাল নেশাগ্রস্থ ও চরিত্রহীন। আর পুত্রের এরূপ উশৃংখলতা নাকি তাদের পারিবারিক কৃষ্টির সাধারণ নিয়মের মধ্যেই পড়ে। শাশুড়ির অন্যের সম্পদের প্রতি গভীর লিপ্সা আর নিজ পুত্রের অসামাজিক কার্যক্রমের নীরব সমর্থন । - আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
বাবা আমার সুখের জন্য তার স্বল্প আয়ের চাকরি জীবনের অর্জিত অর্থকরী, সম্পদ , সবকিছুর সিংহভাগ সমর্পণ করেন আমার শ্বশুরালয়ে , আমার সুখের জন্য কিন্তু তার সকল প্রচেষ্টা অসারতা পর্যবসিত হয়।  আমাকে দাড় করায় মৃত্যুর মুখোমুখি। ( নদীকে উদ্দেশ্য করে দৃঢ় কন্ঠে) - বলুন ,বলুন, এছাড়া আর কি আমার জন্য অন্য কোন পথ খোলা আছে?

( পূর্ণিমার চাঁদ পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে ,পূর্বদিগন্তে আঁধার কেটে আলোর আভা প্রসারিত হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মসজিদে ফজরের আজান হাঁকবে মুয়াজ্জিন ।)
নদীঃ-(বেশ কিছু সময় নীরব থেকে গম্ভীর ও শান্ত কন্ঠে বলল।) মানুষের মন পরিবর্তনশীল । আজ যাকে খারাপ মানুষ বলছ, কাল নয়তো পরশু সেও ভালো হয়ে যেতে পারে। তুমি ধৈর্যশীল হও ! তোমাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে ! ধৈর্যশীল মানুষকে সবাই পছন্দ করে।- এখন বাড়ি ফিরে যাও, গ্রামের মানুষজন জেগে ওঠার সময় হয়েছে , এ অবস্থায় তোমাকে কেউ দেখে ফেললে সমাজে তোমার বদনাম ছড়াবে। আমার অনুরোধ এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে ঘরে ফিরে যাও।
নারীঃ- আজ তুমি আমাকে আমার পথ থেকে বিচ্যুত করলে, আমাকে ফিরিয়ে দিলে। কিন্তু এখানেই সব কিছু শেষ হয়ে যাবে এমনটি ভেবো না।
যা করেছ , তা সাময়িক । আচ্ছা চলি।
তবে জেনে রাখ এরপর আবার যেদিন ফিরে আসব ,সেদিন আর আমাকে ফেরাতে পারবে না। - তোমার সাথে কথা বাড়াতে চাইনা। বিদায় !


(নদী এই অসহায় মহীয়সী নারীর চলে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে রইল যতক্ষন পর্যন্ত তাকে দৃষ্টির নাগালের মধ্যে ধরে রাখা গিয়েছিল।বাংলার এই সহজ -সরলা ,অসহায় ও নিষ্পাপ নারীদের উপর স্বামী ও শাশুড়ি কর্তৃক চরম অবহেলা ও নির্যাতন তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করল। ভারাক্রান্ত মনে চিরায়িত নিয়মে আবার সামনের দিকে এগুতে লাগলো।)


তৃতীয় দৃশ্য
ক্লান্ত ,ভরাক্রান্ত ও বিধ্বস্ত হৃদয়ে সামনে এগুতেই চোখে পড়ল  এক বৃদ্ধ ,অতি প্রত্যুষে, ক্রমশ নদী গর্ভে বিলীন হওয়া পাড়ে ,শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জীর্ণ কুঠীরে আসবাব পত্রাদি কাঁধে লইয়া কখনো বা টেনেহিঁচড়ে অদূরে নিরাপদ জায়গায় স্থুপ  করছে ।ঢেউয়ের ধাক্কায় বৃদ্ধের কুঠীঘর খানি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কঙ্কাল সমতুল্য, বস্ত্রহীন, কেবল কোমরে লুঙ্গি কুচে প্রানপনে দুদিকে ছোটাছুটি করছে। মাথার চুল, কপালের  ভ্রু  ও  শ্বশ্রু বয়সের ভারে ছন -পাকা হয়েছে, মুখের চোয়ালে দুই একটি দাঁত থাকলেও থাকতে পারে।

যেখানে জিনিসপত্রাদি জমা করছে, সেখানে বৃদ্ধার স্ত্রী আপাদমস্তক শাড়ির আচ্ছাদনের ঢেকে বিনাকি সুরে কান্নায় নিজের অদৃষ্টের বর্ণনা করছে । চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ার মতো শারীরিক অবস্থা বৃদ্ধার নেই, মাথাগোঁজার শেষ ঠাঁই টুকু হারিয়ে দু'জনই বিহ্বল হয়ে পড়েছে।

বৃদ্ধঃ-  (নদীকে উদ্দেশ্য করে দুঃখ ও    ক্ষোভে      বলছে।) তুমি আমার সব কেড়ে নিয়েছো ! সাত কানি আবাদি জমি ,পৈত্রিক বসতবাড়ি ,মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়, বাপ-দাদার গোরস্থান সব কেড়ে নিয়ে আমায় পথের ভিখারি বানালে ! এখন আমি কি করব ? কোথায় যাব? কে আমায়  আশ্রয় দেবে জীবনের বাঁকি ক'টা দিন মাথা গোঁজার জন্য ? হে খোদা ,তুমি বলে দাও  ! হয়তো শহর-বন্দর ঘুরে ঘুরে, ফুটপাতে কিংবা রেল স্টেশনে  যাযাবরের মতো জীবনটা করতে হবে খোদা ! (  হু হু করে কান্না, নাকের ময়লা ছুড়ে ফেলে রুক্ষ কন্ঠে)  তুই রাক্ষসী !    তুই সর্বনাশী!    তুই সর্বভুক ! তুই মানব জাতির জন্য অভিশাপ !   তোর কোন দিন ভালো হবে না !

নদীঃ-  (এতক্ষণ অনেক ধৈর্যের সাথে বৃদ্ধের অভিযোগগুলি নীরবে শ্রবণ করছিল কিন্তু এবার নিজেকে আর সামলিয়ে রাখতে পারল না , তাকে উদ্দেশ্য করে ব্যক্ত শেষের কয়েকটি বিশেষণ তার শরীরের শীতল রক্তকে কঠিন উত্তাপে টগবগিয়ে তুলল ।) থামুন !   থামুন !   এবার একটু থামুন !
বন্ধ করুন আপনার মিথ্যে অভিযোগ !  যে অভিযোগে আমি অভিযুক্ত নয় বৃথা চেষ্টায় কেন তা আমার গায়ে লেপিয়ে দিচ্ছেন !    নিজেদের অসৎ কর্মের দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন কেন ?

আপনারাই ভেঙেছেন সব নিয়ম নীতি। নিজের শক্তির দ্বারা পরিবর্তন করেছেন প্রকৃতির শাশ্বত রূপ, নিজ স্বার্থ উদ্ধারে অপরকে করেছেন বঞ্চিত ।নীতি-আদর্শ ,ন্যায়বিচার আপনাদের কাছে মূল্যহীন। ধর্ম -বর্ণের বিভেদ ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সৃষ্টি করে বিশ্ব মানচিত্র কে করেছেন শত -সহস্রা খন্ডে খন্ডিত ,  শক্তির মানদন্ডের নিক্তিতে নিরুপন করেছেন প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক ।আন্তর্জাতিক রীতি- নীতি কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদের বক্ষে গড়েছেন বিশাল বিশাল বাধ-সুইচগেট, খাল কেটে নিজেদের সুবিধার্থে পরিবর্তন করেছেন আমাদের গতিপ্রবাহ, খরা মৌসুমে প্রতিবেশী দেশের লক্ষ লক্ষ একর আবাদি জমিকে পরিণত করেছেন অনুর্বর মরুভূমিতে ।

হারিয়ে ফেলেছি আমরা আমাদের নিজস্ব নাব্যতা শক্তিকে । বর্ষা মৌসুমে ঐসব শক্তিধর বড় বড় দেশগুলো, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্রিজ সুইচগেট ব্যবহার করে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয় প্রতিবেশী দেশে,সৃষ্টি হয় সেখানে বন্যা ,প্লাবনের মত মহা দুর্যোগ -সৃষ্টি হয় কৃত্রিম মহাসংকট। পানি প্রবাহের পথ মসৃণ না হওয়ার কারণে গ্রাম-গঞ্জ ,ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট সবকিছু তলিয়ে যায়, ভাসিয়ে যায় মানুষ, গবাদিপশু, ঘর-বাড়ি ইত্যাদি। স্রোতের প্রবল তোড়ে ভেঙে যায় নিয়ন্ত্রণ বাঁধ  নদীগর্ভে বিলীন হয় শত শত ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ,আরো কত কিছু । বসতবাড়ি হারানো গৃহহীন মানুষ কর্মের খোঁজে ভিড় জমায় বড় বড় শহরে ।- এসবের জন্য কে দায়ী? কে দায়ী? বলুন বলুন চুপ করে থাকবেন না! (বৃদ্ধের উদ্দেশ্যে।) আমি আর সইতে পারছি না !(কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কান্নায় মাটিতে শুয়ে পড়ে,কিছুক্ষণ পর আবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগল।) জীবনের ঊষালগ্নে, পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে কোন একদিন ভূমির বড় বড় পাহাড় চূড়ার জলপ্রপাতে জন্ম নিয়েছিলাম মোরা, ব্রতী ছিল যতদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো ততদিন সারা বিশ্বের সকল সৃষ্টিজীবের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবো। কখনো ভাবেনি মানুষের অকল্যাণে মোরা ব্যবহৃত হব ।

"জননীর পরম স্নেহে সবার মন জুড়াবো"।
কিন্তু হায় ! একই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে !
"তোমরাই দিয়েছো মোদের অমঙ্গলের গ্লানি,
 হয়েছি তাই আজ, বিদগ্ধ জননী "!

এ জগতে
শক্তির জোরে শাসকের চাকা ,
স্বার্থের তরে ঘুরে 
মানুষের মাঝে সাম্যের বানী ,
মুখ ধুবড়িয়ে পড়ে ।

"দহন আমার সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে গেছে, -আমি" বিদগ্ধ জননী "! আমি "বিদগ্ধ জননী " !
আমি আর চলতে পারছি না ! আমার খুব ঘুম পাচ্ছে ! আমার খুব ঘুম পাচ্ছে! আমার দুচোখ মুদে  আসছে ,আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।

চতুর্থ দৃশ্য
শরৎকাল শেষ হতে চলেছে, হেমন্তের আগমন প্রকৃতির দ্বারে কড়া নাড়ছে । খরস্রোতা নদীর বেগ স্মিমিত হয়ে নদীবক্ষে জেগে উঠেছে ছোট ছোট  অনেক চর । সেথায় নানা বর্ণের ঝাঁক ঝাঁক পাখ-পাখালিদের  মিলন  মেলা শুরু হয় প্রভাত থেকেই । শিউলি ঝরা প্রাতে মিষ্টি মধুর কলকাকলিতে নদীর ঘুম ভেঙ্গ গেল । তখন সূর্য পূর্ব আকাশে আলো ছড়ানো শুরু করেছে, মুক্ত হওয়ায় কাশফুলের মাথা গুলি নিত্যের ভঙ্গিতে উঠানামা করছে । সেদিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে নদী  তার অবারিত সৌন্দর্য উপভোগ করছিল।

দূরে  অস্পষ্ট কে যেনো হাওয়ার প্রতিকূলে নাও এর গুন টেনে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে । যখন সেটি দৃষ্টিশক্তির নাগালের মধ্যে এলো, -এ আর অপরিচিত কেহ নয়, এ সেই মাঝি !
(নদী ছুটে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল।)
নদীঃ-  মাঝি ভাই, মাঝে ভাই, তুমি কেমন আছো ?
কতদিন পর হলো তোমার সাথে দেখা হয়নি ? 
তুমি ভালো আছো তো ভাই? তোমায় দেখে মনটা ভরে গেল, প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।
এ যাত্রায় তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন হলো ?
মাঝিঃ-  (গুন টানতে টানতে বাঁকা দেহে ডান দিকে মুখ ফিরে।) আমি ভালো নেই, ভাই ! হাওয়ার প্রতিকূলে প্রাণপণে গুন টানছি ,কখন যে বাড়ি পৌঁছাব ,  ঘরে ফেরার অপেক্ষায় প্রাণটা মুখিয়ে উঠেছে ।
নদীঃ-  কেন ?  কোন দুঃসংবাদ পেয়েছো নাকি?

মাঝিঃ-   ঢাকা বিক্রমপুর বাজারে প্রায়  200 মণ আলু ক্রয় করে যখন  বস্তাগুলি নৌকায় বোঝাই করছিলাম , তখন বড়দিয়া (নড়াইল জেলা) মোকামের একজন পরিচিত বেপারী, খোকার নিজ হাতে লিখা একখানি পত্র আমার হাতে ধরিয়ে দেয় । পত্রটিতে লিখেছে, বাবা তুমি কবে বাড়ি আসবে ?
কতদিন তোমায় দেখিনি ! দাদিমার অসুখ বেড়েছে, মার হাতে টাকা করি নেই । দাদিমার জন্য ঔষধ কিনতে পারছে না । তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো । আমার মন খুব খারাপ, তোমাকে শুধু দেখতে ইচ্ছে করছে ----------(বলতে বলতে সন্তানকে কাছে না পাওয়ার শূন্যতায় মাঝির দু'চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে অশ্রু পড়তে লাগলো ।)
 নদীঃ-  তুমি কেঁদো না ভাই ! তোমার কষ্ট আমাকে ব্যথিত করে । মানুষের কষ্ট আমি সইতে পারিনা। তুমি শান্ত হও! আমার মন বলছে, সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই তোমার নিকট জনদের  কুশলে রেখেছে । তুমি শান্ত হও ! শান্ত হও ভাই !

মাঝীঃ-  (চোখ মুছতে মুছতে) তুমি যা বলেছ, খোদা যেন তাই করেন !
নদীঃ-  আমাদের প্রথম দেখার সময় নাও ভরা মাল নিয়ে তুমি দক্ষিনে পথে যাচ্ছিলে ।
তা-ওগুলি কি ছিল ? আর সে গুলি কি বা করলে ?
মাঝিঃ-  ওগুলি, নবগঙ্গা ধরে কাটাখাল হয়ে মাগুরার চিত্রা নদীর তীরবর্তী হাট গুলি লোহাগড়া ,নলদী,মিঠাপুকুর মোহাম্মদপুর ,বিনোদপুর ইত্যাদি  ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলিতে ঘুরে ঘুরে মটর, কলাই, খৈল ও বাদাম ক্রয় করেছিলাম এবং সেগুলো বিক্রি করতে দক্ষিনে  - গড়াই ,রুপসা নদী ও মালশা খাল হয়ে যাত্রাপুর ,ফকিরহাট ,মালসা  প্রভৃতি হাটগুলোতে  যাচ্ছিলাম।
নদীঃ-  তাতে কেমন লাভ হয়েছিল ভাই ?
মাঝিঃ-   মন্দ নয়, এবার ভালোই ব্যবসা হয়েছে , লাভ ও  হয়েছে । এবার হাটে খৈলের খুব চাহিদা ছিল, মাল বিক্রি করতে বেগ পেতে হয়নি ।
নদীঃ-  যাক শুনে খুব ভালো লাগলো ! অনেকদিন পর মানুষের তৃপ্ত মন ও প্রফুল্ল চিত্তে সাক্ষাৎ পেলাম । 
খুব ভালো লাগলো ! প্রাণটা জুড়িয়ে গেল ! অন্তরের পুঞ্জীভূত দুঃখগুলো অনেকটা হালকা হলো !
(দু'জনের কথাবার্তা শেষ না হতেই নৌকা নির্দিষ্ট গন্তব্য অর্থাৎ ঘাটে পৌঁছে গেল । মাঝি সতীর্থদের একজনকে মহাজনের কাছে হিসাব পত্রাদি বুঝে দেবার নির্দেশ দিয়ে, নিজের মালপত্রাদি তাড়াহুড়া করে গুছিয়ে বাড়ির পথে রওনা হল ।)
নদীঃ- মাঝি ,ভাই মাঝি , মাঝি ভাই, তুমি চলে যাচ্ছ ভাই !
বন্ধু হয়ে আমি তোমার সুখ -দুঃখের সব খোঁজ- খবর নিলাম । তোমার কি একবারও জানতে ইচ্ছে করেনা -মাঝখানের এতগুলো দিন আমার কেমন  কেটেছিল ? 
তোমার সাথে প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল সেদিন তুমি আমার ক্লান্তহীন বয়ে চলা জীবনের ভালো-মন্দ ,হাসি-কান্না ও সুখ-
দুঃখের কাহিনী জানতে চেয়েছিলে । আজ তোমার সাথে আবার দেখা হলো ,-ভেবেছিলাম অনেক কিছু বলবো ! কিন্তু -------------?
মাঝিঃ- আমাকে ভুল বুঝনা ভাই ! তুমি নিশ্চয়ই আমার মনের কষ্ট বুঝতে পারছ !
আমাকে যেতে দাও !
আমাকে ক্ষমা করো !
আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি !

তবে কথা দিচ্ছি;  বিশ্ব প্রতিপালক যদি আমায় বেঁচে রাখে, তবে আগামী ভাদ্রে কোন এক ভরা পূর্ণিমায় ,ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ,দখিনের পথে পাল তোলা নায়ে , দাঁড় ধরে বসে তোমার সাথে প্রাণ খুলে গল্প করবো, তোমার জীবনে ঘটে যাওয়া সব স্মৃতির বর্ণনা শুনবো ।


এবার আমাকে যেতে দাও ভাই !  বিদায় বন্ধু !
                       বিদায় ! 
                           

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোরের নতুন অধ্যক্ষ হলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল নুসরাত নূর আল চৌধুরী

ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোরের নতুন অধ্যক্ষ হলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল নুসরাত নূর আল চৌধুরী

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বৃদ্ধ মায়ের বিষ পানে আত্নহত্যা! আটক ৩!

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বৃদ্ধ মায়ের বিষ পানে আত্নহত্যা! আটক ৩!

পাগলার কান্দিপাড়ায় অজ্ঞান পার্টির কবলে ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র

পাগলার কান্দিপাড়ায় অজ্ঞান পার্টির কবলে ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র

দুই বছরেও শেষ হয়নি হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অটোমেশনের কাজ

দুই বছরেও শেষ হয়নি হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অটোমেশনের কাজ

আবারও ইউটার্ন ট্রাম্পের, 'কখনও হার মানব না'

আবারও ইউটার্ন ট্রাম্পের, 'কখনও হার মানব না'

ভৈরবে গাজাঁ আত্মসাতের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

ভৈরবে গাজাঁ আত্মসাতের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

ভালোবাসার প্রতিদান তানিয়া সুলতানা হ্যাপি

ভালোবাসার প্রতিদান তানিয়া সুলতানা হ্যাপি

পাকিস্তানসহ ১৩ টি দেশকে ভিসা দিবে না আরব আমিরাত

পাকিস্তানসহ ১৩ টি দেশকে ভিসা দিবে না আরব আমিরাত

ঘূর্ণিঝড়ের আকারে আজ রাতেই ছোবল মারতে পারে নিভার, সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ১৪৫ কিমি

ঘূর্ণিঝড়ের আকারে আজ রাতেই ছোবল মারতে পারে নিভার, সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ১৪৫ কিমি

কিংবদন্তী ফুটবলার ম্যারাডোনা আর নেই

কিংবদন্তী ফুটবলার ম্যারাডোনা আর নেই

আমতলীতে নদী দখল করে ইটভাটা, দ্রুত বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর

আমতলীতে নদী দখল করে ইটভাটা, দ্রুত বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর

যেনো বারী সিদ্দিকীর প্রতিচ্ছবি "রাসেল" আরটিভি'র মঞ্চে

যেনো বারী সিদ্দিকীর প্রতিচ্ছবি "রাসেল" আরটিভি'র মঞ্চে

পাকিস্তানে ধর্ষকের শাস্তি "পুরুষাঙ্গ" অকেজো করে দেওয়া

পাকিস্তানে ধর্ষকের শাস্তি "পুরুষাঙ্গ" অকেজো করে দেওয়া

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সিঙ্গাপুরে ১৫ বাংলাদেশিকে বহিষ্কার

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সিঙ্গাপুরে ১৫ বাংলাদেশিকে বহিষ্কার

রংপুরে ৩০হাজার টাকা মুক্তিপন না পেয়ে শিশু রাব্বিকে হত্যা করে অপহরণকারীরা

রংপুরে ৩০হাজার টাকা মুক্তিপন না পেয়ে শিশু রাব্বিকে হত্যা করে অপহরণকারীরা

সর্বশেষ

শীতের মধ্যে আমলকি কেন জরুরি

শীতের মধ্যে আমলকি কেন জরুরি

বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার,পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে ২৩ জনকে জরিমানা

বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার,পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে ২৩ জনকে জরিমানা

হিন্দু-মুসলিম বিয়ে ঠেকাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশে অর্ডিন্যান্স

হিন্দু-মুসলিম বিয়ে ঠেকাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশে অর্ডিন্যান্স

জাতি বা ধর্ম নয়, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অগ্রসরতা

জাতি বা ধর্ম নয়, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অগ্রসরতা

ঘরেই তৈরী করুন মজাদার বোরহানি

ঘরেই তৈরী করুন মজাদার বোরহানি

গোয়াইনঘাটে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

গোয়াইনঘাটে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

ফল পরিবর্তনে সমর্থকদের কাজ করতে হবে: ট্রাম্প

ফল পরিবর্তনে সমর্থকদের কাজ করতে হবে: ট্রাম্প

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে ০৪টি পদে চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে ০৪টি পদে চাকরির সুযোগ

ব্রাজিলে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে ৪১ নিহত, আহত ১০

ব্রাজিলে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে ৪১ নিহত, আহত ১০

দিয়েগো মারাদোনার জাদুকরী ৫ গোল

দিয়েগো মারাদোনার জাদুকরী ৫ গোল

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুহতাসিম তকির পরিচালনায় 'গল্পটা এমনই ভালো'

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুহতাসিম তকির পরিচালনায় 'গল্পটা এমনই ভালো'

লোহাগাড়ায় গুলিতে কিশোর নিহত

লোহাগাড়ায় গুলিতে কিশোর নিহত

প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ভাল? সাবধান করলেন গবেষকরা

প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ভাল? সাবধান করলেন গবেষকরা

সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা: একে অপরকে অভিযোগ করছে ভারত-পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা: একে অপরকে অভিযোগ করছে ভারত-পাকিস্তান

দক্ষিনাঞ্চল তথা দেশের একটি অপার সম্ভাবনা সুন্দরবন এলাকা

দক্ষিনাঞ্চল তথা দেশের একটি অপার সম্ভাবনা সুন্দরবন এলাকা