সুচিত্রা একটানা ৩০ বছর বাসায় ছিলেন, আমরা ১৫ দিন পারবো না?

ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে সুচিত্রা সেন যেনো মোহিনি হাসি, সজল দৃষ্টি আর রহস্যময় ভঙ্গিমার এক চিরন্তন প্রতিমা। এই মহানায়িকা রূপালি পর্দার জ্বলমলে জীবনকে বিদায় জানানোর পর আর মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হননি। ফলে যৌবন পরবর্তী সময়ে তিনি দেখতে কেমন ছিলেন তা আর কেউ জানে না। শুধু তাই-ই নয় ৩০ বছরের বেশি সময় বাড়ির বাইরে বের হননি সুচিত্রা। এমনকি ঘরের মধ্যেও কোনো কায়িক পরিশ্রম করেননি। শুয়ে-বসে থেকেছেন বছরের পর বছর।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বাংলা প্রেমের ছবিকে স্বর্ণযুগে পৌঁছে দিয়েছিল উত্তম-সুচিত্রা চিরসবুজ জুটি। ১৯৫০ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর কোটি বাঙালির হৃদয়ে ঝড় তুলে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন পর্দার অন্তরালে। ঠিক কোন অভিমানে এ বাংলার মেয়ে সুচিত্রা ১৯৭৮ থেকে ২০১৪ প্রায় তিনটি যুগ পর্যন্ত নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন- শেষ পর্যন্ত তা হয়তো অজানাই থেকে গিয়েছে।

এখন আসল কথায় আসা যাক, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৯০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এরইমধ্যে মরণঘাতী ভাইরাসটি উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়াও বিশ্বের ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমনকি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। তাই বাসায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। বাসায় থাকার কোনো বিকল্প নেই।

আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। কর্মস্থলে, স্কুলে বা লোকসমাগম হয় এমন যে কোন প্রকাশ্য স্থানে যাওয়া বন্ধ করে দিন। কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অর্থাৎ বাস, ট্রেন, ট্রাম, ট্যাক্সি বা রিকশা যাই হোক না কেন উঠবেন না। এমন একটা ঘরে থাকুন যেখানে জানালা আছে, ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে। বাসার অন্য লোকদের থেকে আলাদা থাকুন। আপনাকে কেউ যেন ‘দেখতে না আসে’ তা নিশ্চিত করুন।

আপনার যদি বাজার-হাট করতে হয়, বা কোন ওষুধ বা অন্য কিছু কিনতে হয় তাহলে অন্য কারও সাহায্য নিন। আপনার বন্ধু, পরিবারের কোন সদস্য বা ডেলিভারি-ম্যান এটা করতে পারে। যারা আপনার জন্য খাবার বা জিনিসপত্র নিয়ে আসবে, তাদের বলুন আপনার ঘরের দরজার বাইরে সেগুলো রেখে যেতে।

সর্বোপরি, সুচিত্রা সেন যদি ৩০ বছরের বেশি সময় বাড়ির বাইরে বের না হয়ে থাকতে পারেন আমরা কেন দেশের এই ক্রান্তিকালে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ১৫-২০ দিন বাড়িতে থাকতে পারবো না? তাই সময় হয়েছে নিজেকে বাঁচানোর। দেশকে বাঁচানোর।

মতামত দিন

avatar