মাদ্রাসার চিলেকোঠায় ঝুলছে ছাত্রীর লাশ, ৪ হুজুর ধরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সলিমগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মাদরাসা প্রধানসহ ৪ শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোস্তফা (৪০), শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন (৩০), মাওলানা আল আমীন (২৮) ও হাফেজ মো. ইউনুছ মিয়াকে (৬০) গ্রেপ্তার করে। তারা সকলেই এজাহারভূক্ত আসামি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় প্রায় ২০০ ছাত্রী লেখাপড়া করছে। তাদের মধ্যে ৫০ জন ছাত্রী মাদরাসার আবাসিক হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। ঘটনার শিকার ছাত্রী আমেনা খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী। নবীনগরের পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে আমেনাদের বাড়ি। বাবা সৌদীপ্রবাসী মমিনুল ইসলাম। একমাত্র মেয়ে আমেনাকে মাদরাসায় শিক্ষা দিতে হোস্টেলে রেখেছিলেন তিনি।

মা সেলিনা খাতুন বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সেলিম মেম্বার নামের ব্যক্তি মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন। দ্রুত ছুটে যাই সলিমগঞ্জের মাদরাসায়। সেখানে গিয়ে দেখি মাদরাসার চতুর্থ তলার চিলেকোঠায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমার মেয়ের লাশ ঝুলছে।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোস্তফা মাওলানা বিকেলে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। মাদরাসার দ্বিতীয় তলায় থাকা তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার সময় মেয়ের মৃত্যু হয়। পরে মাদরাসার একজন পরিচালক ও চারজন শিক্ষকের সহযোগিতায় মেয়ের লাশ চিলিকোঠায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এদিকে মাদরাসার হোস্টেলে ছাত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় ও বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই মাদরাসার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোস্তফা (৪০), শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন (৩০), মাওলানা আল আমীন (২৮) ও হাফেজ মো. ইউনুছ মিয়াকে (৬০) গ্রেপ্তার করে। তারা সকলে এজাহারভূক্ত আসামি।

গ্রেপ্তারদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মতামত দিন

avatar