ঠাকুরগাঁওয়ে ছিন্নমূলের পাশে ‘জার্নি অফ ইউনিটি’

সমাজের অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের ‘জার্নি অফ ইউনিটি’ । অসহায়দের সাহায্যের পাশাপাশি করে যাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজ। জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের একগুচ্ছ কর্মঠ ও পরোপকারী ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে গড়ে তুলেছে সংগঠনটি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে মাত্র দশজন সদস্য নিয়ে সংগঠনটি তাদের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা তিন গুণ। শীতে দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ, ভালোবাসা দিবসে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে খাদ্র ও বস্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন দিবসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করাসহ নানা ধরনের সেবা মূলক কাজ পরিচালনা করছে আসছে তারা। তাদের এই কার্যকলাপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড.কেএম কামরুজ্জামান সেলিম সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ মামুন। সেই সাথে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন মহল ও অভিভাবকরা।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিথিলা দাসের বাবা প্রদীপ দাস সন্তানের এমন কার্যকলাপের বিষয়ে বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি এভাবেই দরিদ্রদের সাহায্য করে তাহলে হয়তো আস্তে আস্তে এই দরিদ্রের সংখ্যা কমে যাবে। আর আমার সন্তানের পাশাপাশি যারাই এখানে আছেন সকলেই আমার সন্তানের মতো। পড়াশুনার পাশাপাশি তারা অবসর সময়টি সমাজের ছিন্নমূল মানুষের কল্যানে ভাবছে এটা ভাবতেই একটা অন্য রকম অনুভ’তি কাজ করে মনে। সংগঠনটির রাকিব আল রিয়াদ জানান,বিভিন্ন সময় দেখি সমাজের অসহায় ও দারিদ্র মানুষদের কষ্ট পেতে। কেউ রেল লাইনের ধারে শুয়ে আছে,কেউবা রাস্তার সাইডে বসে আছে। এসব চোখে পড়লে খারাপ লাগে। মাঝে মধ্যে নিজের পকেট থেকে যা পাড়তাম দিতাম। তখনি ভাবতাম যদি আমার মতো আমার বন্ধুরা বা আমার ছোট ভাই ও বোনেরা এভাবেই এই অসহায়দের পাশে আশে তাদের সাহায্য করে তাহলে হয়তো এই মানুষগুলোর কষ্টটা কিছুটা কম হবে। এমনি চিন্তা নিয়ে আমি আমার কলেজের বন্ধু,বিভিন্ন স্কুলের ছোট ভাই তাদের সাথে নিয়ে এই সংগঠনটি তৈরী করেছি।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিথিলা দাস জানান,আমরা সকলেই যারা আছি স্কুল কলেজের ছাত্র। আমাদের পড়াশুনার পাশাপাশি যে অবসর সময়টি পাই সেটাতে আমরা ভাবি যে কি করলে আসলে একজন অসহায় মানুষের সাহায্য হবে। প্রথমে আমাদের পাশে কেউ ছিলেন না। এরপর আমাদের কার্যকলাপ থেকেই অনেকে অনুপ্রানিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির কার্যকলাপে আনন্দিত হয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,প্রথম দিন তারা যখন আমাকে তাদের একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ করেছে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম আসলে কি এটা। পড়ে এসে দেখলাম সকলেই স্কুল কলেজের ছাত্র। সুন্দর পরিবেশে তারা একটি শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দেখে অনেক ভালো লেগেছে। আসলে তারা এই অল্প বয়সে এতো কিছু করতে চাচ্ছে এটাই অনেক। তিনি আরো বলেন,আমি চাইবো এই সংগঠনটি তাদের এই ধরনের কার্যকলাপগুলো বজায় রাখুক। আমরা চেষ্টা করবো তাদের পাশে থাকার।

মতামত দিন

avatar