করোনা সতর্কতা: এই সময় গর্ভবতীদের করণীয়

গর্ভ ধারণ প্রতিটি মায়ের জন্যই খুব আনন্দের। এই খুশি শুধু হবু মা-বাবার মধ্যেই নয়, পরিবারের সবার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। গর্ভবতীদের প্রতি সাধারণভাবেই একটু বেশি যত্নবান হতে হয়।

তবে বিশ্বে এখন করোনার আতঙ্ক। কেউই সুরক্ষিত নয়। নিজেদের প্রতি নিজেরাই বেশি যত্নবান না হলে করোনার মরণ ছোবল থেকে বাঁচা অসম্ভব। নিজেদের পাশাপাশি এসময় বাড়ির সবাই যথাসাধ্য গর্ভবতী মায়েরও যত্ন নিন।

করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে দেশে এখন লকডাউনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কতদিন ঘরে নিজেকে বন্দী রাখতে হতে পারে তা নির্দিষ্ট করে কেউই বলতে পারবে না। তাই চাইলেই পছন্দের খাবারটি বাইরে থেকে আনাতে পারবেন না। আর না আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতেও পারবেন। কথাটি শুনে মন খারাপ হলেও এইটাই সত্যি। বর্তমান পরিস্থিতি এখন এইটাই।

বিশ্বের এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক গর্ভবতী মায়ের মনের অবস্থা এখন খুব খারাপ। তাদের মধ্যেও করোনার আতঙ্ক রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কঠিন সময় আগেও এসেছে। সে সময়েও বহু নারী নিরাপদেই সন্তান প্রসব করেছেন। তাই
চিন্তিত কিংবা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলাদা করে না ঘাবড়ে সব গর্ভবতী নারীরই সাধারণ মানুষের জন্য জারি হওয়া নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে যাবেন না, সর্দি-কাশি হলে সব সাবধানতা মেনে চলুন।

> যদি জানতে পারেন কেউ আক্রান্ত হয়েছে, তবে তার থেকে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রাখুন। যদি কোনোভাবে আপনি সংক্রমিত হয়ে যান, তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

> এসময় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ সাধারণত করোনা সংক্রমণ গর্ভবতীদের ক্ষেত্রেও খুব বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায় না। সাধারণ জ্বর-সর্দির লক্ষণই থাকতে পারে, তবে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে ডাক্তারকে জানান।

> গর্ভবতী মায়েরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। ফোনের মাধ্যমে কাছের মানুষের সঙ্গে যোগযোগ রাখুন।

> গর্ভবতীদের জন্য হাঁটাচলা করা জরুরি। তাই বাইরে না যেয়ে ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করুন।

> নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। বাড়তি  কোনো চিন্তা করবেন না।

> ওজন যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মনে রাখবেন, পরিস্থিতি অবশ্যই পালটাবে। তাই আপনার সাবধান হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।

মতামত দিন

avatar