অসুখ নিয়ে বিভ্রাট

আমাদের দেশের মানুষ আজকাল সুচিকিৎসার চেয়ে স্বচিকিৎসার ওপর বেশি নির্ভর করছে, যা পরবর্তী সময়ে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলে এর প্রবণতা অপেক্ষাকৃত বেশি মাত্রায় লক্ষণীয়। একথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শহরে বসবাসকারী অনেক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এসব ব্যাপারে অজ্ঞতার প্রমাণ মেলে। ফলে শরীরের রোগ সঠিকভাবে চিহ্নিত করার আগেই নানাবিধ ভুল চিকিৎসা প্রয়োগের কারণে অনেক সময় নতুন রোগের সৃষ্টি হয়, যা রোগীর স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ হুমকিস্বরূপ।

অনেক সময় শরীরের সাধারণ অসুখের ক্ষেত্রেও গ্রামাঞ্চলে মানুষের মনে নানারকম আশঙ্কার উদ্রেক হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগের চিকিৎসায় অপেক্ষাকৃত বেশি মূল্যের ওষুধ বা ওষুধ সংখ্যায় বেশি হলে তা রোগীকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করে থাকে। এমন ঘটনারও প্রচলন রয়েছে যে, কোনো ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিমিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়াতে রোগী অসন্তুষ্ট হয়ে তার কাছে পরবর্তী সময়ে আর যাননি বা যাবেন না। স্বাস্থ্য সম্পর্কে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে তুললে এ ধরনের বিভ্রাট থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। শহরাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যেও আজকাল অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত বিভিন্ন ভুল পদক্ষেপ নেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

অনেকে শরীরের রোগ সঠিকভাবে নির্ণয়ের আগেই নির্দ্বিধায় নানা ধরনের ওষুধ সেবনের ফলে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটে থাকে। শরীরের যে কোনো অঙ্গের ব্যথায় তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ বা পেটের পীড়া হলেই গ্যাস্ট্রিকজনিত রোগ বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করেও অনেকে জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শুধু উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে বরং নিজের স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

পরিবারের ছোট শিশুরা স্বভাবগতভাবেই বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের অনুসরণ করে থাকে। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবনের প্রবণতা তাদের মধ্যেও বেশ লক্ষণীয়। এক্ষেত্রে শুধু শিশুদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা নিজে সচেতন হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে তা অধিক কার্যকর হবে বলে আশা করা যায়। শরীরের রোগ এবং তা নিরাময় সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা ভালো, তবে কেবল তা বিবেচনা করে চিকিৎসা গ্রহণ এবং অন্যকে পরামর্শ প্রদান একেবারেই অনুচিত। তাই শারীরিক যে কোনো সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিয়মমাফিক জীবনযাপনের মাধ্যমে অসুখ নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রাটের অবসান সম্ভব।

মতামত দিন

avatar