শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটালইজট কার্যক্রম ষোল আনাই মিছে!

eyenewsbd.com
eyenewsbd.com

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটালইজট কার্যক্রম ষোল আনাই মিছে!
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা এবং ফলপ্রসু নিচ্ছিত করণে মাউশি’র নির্দেশ মোতাবেক প্রায় বছর তিনেক আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটালাইজট কার্যক্রম শুরু করলেও এর সামান্য সুফল মেলেনি। অথচ শুধুমাত্র এ কাজের
জন্য কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ১১ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিফোন কমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল)। গত-৩০ এপ্রিল ২০১৫ ইং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক পরিপত্র জারীর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব সাইট তৈরির নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক ৩০ জুন ২০১৫ তারিখের মধ্যে ওয়েব সাইট তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করারও সময় বেধে দেয়া হয়। কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামে এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫ টি ও নন এমপিও ৫৭ টি, মাধ্যমিক এমপিও ভুক্ত ২৪৫ টি ও নন এমপিও ভুক্ত ০৪টি, মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত ২১০ টি ও নন এমপিও ভুক্ত ৮৩ টি, স্কুল এন্ড কলেজ এমপিও ভুক্ত ১১টি ও নন এমপিও ভুক্ত ০১ টি, টেকনিক্যাল কলেজ এমপিও ভুক্ত ০৬টি ও নন এমপিও ভুক্ত ০৭টি, কলেজ এমপিও ভুক্ত ২৪টি ও নন এমপিও ভুক্ত ০৮ এবং সরকারী কলেজ ৩টিসহ মোট ৬৮৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে কয়েক দফায় মাউশি’র নির্দেশে পূর্ণাঙ্গ ওয়েব সাইট তৈরির তাগিদ দেয়া হয়। সে মোতাবেক প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েব সাইট খুললেও কতটি প্রতিষ্ঠান ওয়েব সাইট তৈরি করে তার সঠিক হিসেব নেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের। সুত্র মতে, কুড়িগ্রামে ৬৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫’শ টি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ওয়েব সাইট তৈরি করে। মাউশির প্রজ্ঞাপনে ওয়েব সাইটে বাধ্যতামূলক থাকা বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীদের ছবিসহ ডাটাবেইজ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফিস গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানের সকল অভ্যন্তরীন পরীক্ষার ফলাফল তৈরি ও অনলাইনে ডাউনলোডের সুবিধা, ছাড়পত্র, প্রশংসা পত্র, প্রত্যয়নপত্র, টটলিষ্ট ইত্যাদি তৈরির ব্যবস্থা, শিক্ষক কর্মচারীদের সৃষ্টপদ কর্মরত জনবল ও শুন্য পদের তথ্য, নোটিশ বোর্ড, স্ক্রলসহ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সংবাদ, ক্লাস রুটিন, পাঠ্যক্রম, সহশিক্ষার কার্যক্রম, পাবলিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ভিত্তিক কর্নার, শিক্ষক কর্নার, শিক্ষার্থী কর্নার ও অভিভাবক কর্নার, বিভিন্ন প্রকার কনটেন্ট ডাউনলোড কর্নার, কার্যনির্বাহী পর্ষদ, একাডেমিক কাউন্সিলের পরিচিতি, ওয়েব সাইট অনলাইন ভিজিটরসহ মোট ভিজিটর, অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে এসএমএস নোটিফিকেশন প্রেরন, শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের হাজিরার তথ্য, শিক্ষক কর্মচারীদের ছুটি ব্যবস্থাপনা, স্যালারি সিট তৈরি ও প্রতিষ্ঠানের একাউন্টস,
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, ভৈৗত কাঠামো, মাষ্টার প্লান, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, ছুটির তালিকা ও ক্লাস রুটিন, প্রয়োজনী ও গুরুত্বপূর্ন ওয়েব সাইট লিংক, ফটোগ্যালারি, প্রতিষ্ঠান প্রধানের বানী, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ইমেইল করার অপশন ও যোগাযোগের ঠিকানা, কৃতি শিক্ষার্থীদের তথ্য, প্রাক্তন প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষকদের তথ্যাবলি ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল। এসব তথ্য সংযোজন করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাজ করতে হবে। যার জন্য প্রত্যেকটির জন্য আলাদা পরিচয়ের ডাটাবেইজ থাকতে হবে। যা কন্টোল প্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়িত হালনাগাদ করবেন। এই জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বা প্রতিষ্ঠানের কাউকে দক্ষ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজাররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট হালনাগাদ ও যথাযথ তথ্য রয়েছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করবেন। ওয়েব সাইট তৈরির সঠিক দিক নির্দেশনা ও ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে উপজেলা, জেলা
শিক্ষা অফিসার এবং আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের মাধ্যমে তিন মাস পর পর প্রতিবেদন মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও জেলা-উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি/সার্বিক) মনিটরিং
করবেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাউশির ডিজিটালাইজট কার্যক্রম নির্দেশনা পরবর্তি করণীয় এমনকি তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করে দেয়া ওয়েব সাইট কোন কাজেই আসেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ওয়েব সাইট সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকায় এক বছরের যেতে না যেতেই কুড়িগ্রামে ৫৫০টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটের মধ্যে প্রায় ৫০০ টি বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে খোদ, বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, মাউশির ডিজিটালাইজট কার্যক্রম ষোলো আনাই মিছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জানিয়েছেন, মাউশির ডিজিটালাইজট কার্যক্রম নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ হলেও এর সুফল সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে না। তারা উদাহরণ টেনে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার প্রথম সারির দু’চারটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটের প্রয়োজন থাকতে পারে কিন্তু অন্যান্য
প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব সাইট তৈরি বিলাসীতা ছাড়া কিছুই নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি করার পর বন্ধ হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। নাম করা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের স¦ার্থে ওয়েবসাইট খুলবে, সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে সেখানে নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন নেই। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট খোলা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় তিন/চারটি বাদে সব গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। একই কথা জানালেন, উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমীক সুপারভাইজার সাইফুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার তাগিদ দেয়ারপরও তারা সাইট গুলো হালনাগাদ করেনি। তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় যে কটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট এখনো সচল রয়েছে সে সাইটগুলোতেও প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য নেয়া বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোজনের সুযোগ নেই। ওইসব ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে তাৎক্ষনিক কোন তথ্য তো নেই, পূর্বের কোন তথ্যও সেখান থেকে পাওয়ার প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। এসব ওয়েব সাইটের কন্ট্রোল প্যানেল নেই। শুভংকরের ফাঁকি দিয়ে যা তৈরি করে দেয়া হয়েছে, তা কিভাবে পরিচালনা করা হবে তা একমাত্র তৈরিকারী আইটি প্রতিষ্ঠান অবগত। আইটি প্রতিষ্ঠান আনছারী’র ডেভলোপার মো. নুরবক্ত আলী জানান, এই সমস্যা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য নয়, শিক্ষা কর্মকর্তাদের আইটি সম্পর্কে সামান্য বা সম্পূর্নভাবে অজ্ঞাত থাকায় হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাউশি’র নির্দেশনা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৯০ ভাগ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সাইট তৈরি করলেও সিংহভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট হালনাগাদ ও যথাযথ তথ্য রয়েছে কিনা এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমীক সুপার ভাইজারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের উপজেলায় কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার তথ্য দিতে পারলেও ওয়েব সাইটের বিষয়ে কোন হালনাগাদ তথ্যই দিতে পারেনি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দল কাদের কাজী বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অল্প কয়েকদিন হলো আমার দায়িত্ব নেয়ার। এ বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য তার জানা নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Comments

comments