ফুসফুসের সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর আহ্বান

ফুসফুসের সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর আহ্বান

ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতা প্রতিরোধে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। 

শুক্রবার ( ৩১ মে) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র জটিলতার সঙ্গে তামাকসেবনের সম্পর্ক বিষয়ে জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘তামাক ও ফুসফুসের স্বাস্থ্য’।

ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতা বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এবং গোটা বিশ্বে মৃত্যুর পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় কারণের মধ্যে দু’টিই ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা। তামাক ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপান ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের প্রধানতম কারণ। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে, ফুসফুস ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস (সিওপিডি), যক্ষ্মা ও অ্যাজমা। 

তামাক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর বিশ্বে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুবরণ করে আরো প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যার বড় একটি অংশ শিশু। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মারা যায় তামাক ব্যবহারের কারণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ, যা একইসঙ্গে তামাক ব্যবহারজনিত মোট মৃত্যুর ২৮ শতাংশের জন্য দায়ী। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশে শিশু যক্ষ্মা রোগী পাওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। ২০১৭ সালে এই হার বেড়ে ৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৩ সালে ছিল মাত্র ২.৮ শতাংশ। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় রাজধানী ঢাকার প্রাথমিক স্কুলে পড়া ৯৫ শতাংশ শিশুর দেহে উচ্চমাত্রার নিকোটিন পাওয়া গেছে, যার মূল কারণ পরোক্ষ ধূমপান। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনও ৩ কোটি ৭৮ লাখ (৩৫.৩%) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৮১ লাখ মানুষ। এমনকি বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এবং এক্ষেত্রে নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে অনেক বেশি।
 
এ বিষয়ে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, কার্যকর কর ও মূল্য পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত কম। ফলে দেশের তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী খুব সহজেই তামাক ব্যবহার শুরু করতে পারে। আসন্ন বাজেটে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।

ট্রান্স ফ্যাটের কারণেই মহামারীতে হৃদরোগ

অসংক্রামক রোগে দেশে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয় তার প্রায় অর্ধেকই হৃদরোগের কারণে। বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট মৃত্যুর এক তৃতীয়াংশ বা ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর মতো হৃদরোগ এভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে প্রধান কারণ ট্রান্স ফ্যাট।

তারা বলেছেন, ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের হার ২ শতাংশ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার ৩৪ শতাংশ বাড়ে। তাই সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে ট্রান্স ফ্যাটের ঝুঁকি কমাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, ট্রান্স ফ্যাট বা ট্রান্স-ফ্যাটি অ্যাসিড (টিএফএ) হলো প্রাকৃতিক বা শিল্প উৎস থেকে আসা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। প্রাকৃতিক ট্রান্স-ফ্যাটের মধ্যে রয়েছে দুধ, মাখন, ঘি, গরুর মাংস, ছাগলের মাংসের মতো প্রাণীজ উৎস। যা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভিজ তেলের হাইড্রোজেনেশনের সময় ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পে উৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস। 

সিঙ্গারা, সমুসা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্য যা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকে সেগুলো তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া  অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয় সেগুলোতেও ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এছাড়া রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলেও তাতে ট্রান্স ফ্যাট উৎপাদিত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ট্রান্স-ফ্যাটি এসিড অন্যান্য যেকোনো খাদ্যের তুলনায় হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ‘ভালো’ কোলেস্টেরল কমায়। এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। 

জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ এরও বেশি মানুষ অসংক্রামক রোগে (এনসিডি) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘এনসিডি কান্ট্রি প্রোফাইল, বাংলাদেশ’ অনুসারে ৩০-৭০ বছর বয়সের মধ্যে ২২ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগের কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ ট্রান্স ফ্যাট।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের পক্ষে সম্ভব না। আরো বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠক করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   

এদিকে শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে ২০১৯-২০ সালের মধ্যে খাবারের উৎস থেকে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সারাদিনে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা ২ দশমিক ২ গ্রামের কম হবে। বর্তমানে এটি ২ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদিত আছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের মানুষ গড়ে কি পরিমাণ ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ কড়া করে ভাজা খাবারে টিএফএ’র পরিমাণ নির্ণয় করতে একটি গবেষণা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

২০১৫ সালের একটি গবেষণায় জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ১০টি বিস্কুটের মধ্যে ৫ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এটা ডব্লিউএইচও নির্ধারিত বর্তমানের পরিমাণের চেয়ে অনেকগুণ বেশি।

বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ, শিশু-কিশোররা ও বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা প্রচুর পরিমাণে সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, জিলাপির মতো কড়া ভাজা খাবার গ্রহণ করে। এই খাবারগুলো সাধারণত পাম তেল দিয়ে ভাজা হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়। ফলে এসব খাবারের ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেলে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। এই মান নিয়ন্ত্রণের জন্য রিফাইনারিগুলোকে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার দরকার পড়ে না। ফলে সহজেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এরপর ২০১৫ সালে এফএসএসএআই ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে আসে। পরবর্তী ধাপে তারা ডব্লিউএইচও নির্ধারিত মাত্রা পূরণ করবে। অথচ, বাংলাদেশ এখনো ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণের পথে যাত্রেই শুরু করেনি।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে হৃদরোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারকে খাদ্য ও তেলের ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজন ৩ লাখ, আছে ৪৮ হাজার নার্স

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক এবং নার্সের অনুপাত হতে হবে ১:৩। অর্থাৎ একজন চিকিৎসকের সঙ্গে অন্তত ৩ জন নার্স থাকতে হবে। সেই হিসাবে দেশে প্রায় ৩ লাখ নার্সের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারিভাবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৪ হাজার। সারাদেশে নিবন্ধিত নার্স আছেন ৪৮ হাজার। যা চাহিদার তুলনায় অতি নগন্য। এতে করে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক গতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাগত উৎকর্ষতা সাধন এবং দায়িত্বপ্রবণ হলে বর্তমানে নিযুক্ত নার্স দিয়ে আরও ভাল সেবা পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর ও নার্সিং কাউন্সিলকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নার্সিং পেশার উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এমনকি সাধারণ নার্সরাও হচ্ছেন অধিকার বঞ্চিত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রকৃত মেধাবী নার্সিং অফিসারদের অবমূল্যায়ন করা, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে নার্সিং পেশা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে নার্সিং পেশা ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে করে নার্স এবং রোগী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নার্সিং পেশায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।  
নার্সিং পেশার মান সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর ও নার্সিং কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের অপসারণ করে সৎ ও যোগ্য লোক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কথা উল্লেখ করেন ইকবাল হোসেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে রহিমা খাতুন, সাহাজাদী হারুন, জোহরা বানু, আক্তার বানুর মতো কয়েকজনের হাত ধরে এই পেশার যাত্রা। সেই সময় নার্সিং পেশাকে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নার্সিংয়ের জন্য পৃথক প্রশাসন কাঠামো তৈরি করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেন। ২০০৯ সালে পুনরায় ১৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর পদসৃষ্টিসহ ২০১০ সালে প্রায় ২০০০ জন নার্স, ২০১৩ সালে ৪১০০ জন নার্স এবং ২০১৬ সালে ইতিহাসের রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১০ হাজার নার্সকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আরও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এত নিয়োগের পরেও বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নার্সের পদ শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স নিয়োগের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সেবা পরিদফতরকে অধিদফতরে রূপান্তরকরণ ও নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদান এবং প্রথম শ্রেণির নার্সিং পদ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া উচ্চতর শিক্ষা নিশ্চিতে এম.এস.সি নার্সিং কোর্স চালুসহ সরকারিভাবে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অনুমোদন করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে দেশে সরকারি ৬২টি নার্সিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ২১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ৫ হাজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১১ হাজারের বেশি নার্স  নার্সিং কাউন্সিল থেকে সনদপ্রাপ্ত হন।

রোববার (১২ মে) এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নার্সেস বলিষ্ট কণ্ঠস্বর, স্বাস্থ্য মানবিক অধিকার’। এবারের নার্সিং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই  দিবসটি উপলক্ষে রোববার রাজধানীর মুগদায় প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি র‌্যালি এবং সকাল সাড়ে ৯টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর আড়াইটায় স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের পক্ষ থেকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সকাল ১১টায় রাজধানীর বারডেম মিলনায়তনে ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ১২ জন নার্সকে ‘মাহবুব-উজ-জামান অ্যাওয়ার্ড- ২০১৯’ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আধুনিক নার্সিং-এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনটি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসাবে পালন করা হয়। তিনি ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানব সেবায় বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের মানবেতর জীবন অনুভব করে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে তাদের সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। প্রদীপ হাতে তাদের সেবা করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার কারণে তাকে তখন থেকেই ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

Comments

comments