টাইমস স্কয়ারে হামলার পরিকল্পনা: গোয়েন্দাদের স্টিং অপারেশনে যেভাবে ধরা পড়লো বাংলাদেশী যুবক

সাকিব সৈকত

যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে হামলা চালানোর জন্য অবৈধ অস্ত্র কেনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এক বাংলাদেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। পরের দিন তাকে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্রুকলিনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক শেরিল এল পোলক তাকে স্থায়ীভাবে আটক করে রাখার আদেশ দেন, এমনটাই জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

২২ বছর বয়সী আশিকুল আলম টাইমস স্কয়ারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জন্যে অবৈধ অস্ত্র কিনেছিলেন যেগুলোর গায়ের সিরিয়াল নাম্বারগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল, একথা আদালতকে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এর্টনি রির্চাড ডনোগহিউ।

কিন্তু মি. আলম জানতেন না যে তিনি অস্ত্রগুলো সরকারি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে কিনছেন এবং তার পরিকল্পনা ও গতি-বিধি ‘মনিটর’ করা হচ্ছে, জানান মি. ডনোগহিউ।

তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার কোন অভিযোগ আনা হয়নি।

কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?

আশিকুল আলমের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায়। অর্ধযুগ আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া মি.আলম সেখানকার জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিস – এর তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক লাভলু আনসার।

তার বাবা মোঃ শাহজাহান ম্যানহাটনের একটি ফুড কোর্টের ব্যবসায়ী বলে জানা যাচ্ছে।

কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে যে বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে, সেখানকার লোকজনের সাথে তেমন ভালো মেলা-মেশা ছিল না মি. আলমের। তবে এই ঘটনার জের ধরে ওই কমিউনিটির মধ্যে একটা ‘আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন মি. আনসার।

আরো পড়ুন:

জামিনে পলাতক ‘জঙ্গি’রা কতটা ঝুঁকি তৈরি করছে?

পুলিশ কেন ‘আইএস’ হামলার লক্ষ্যবস্তু?

বিশ্বের কোথায় কোথায় এখনও তৎপর ইসলামিক স্টেট

গ্রেপ্তার করতে ১০ মাসের বেশি ‘স্টিং অপারেশন’

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর স্পেশাল এজেন্ট সিন ডিললন এর ফাইল করা অভিযোগপত্রে মি. আলমের পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথিতে বলা হচ্ছে, নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিক মি. আলম আমেরিকার এজন বৈধ স্থায়ী অধিবাসী।

নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে মি. আলমের সাথে প্রথমবারের মত দেখা করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গোয়েন্দা। পরে এবছরের ৬ই জুন পর্যন্ত নিয়মিত তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

তখন মি. আলম ৯/১১ সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পক্ষে কথা বলতেন। তিনি অনেকবার কথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনেরও প্রশংসা করতেন। এমনকি নিউ ইয়র্ক সিটিতে হামলা চালানোর জন্যে বহুবার অস্ত্র, গোলাবারুদ কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাতেন মি. আলম।

তাদের মধ্যে সব কথোপকথন রেকর্ড করেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর এজেন্টরা।

‘বিন লাদেন নিয়ে আগ্রহ’

নথিতে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের ১১ই সেপটেম্বর যখন ওই সরকারি গোয়েন্দার সাথে মি. আলমের দেখা হয়, তখন তিনি নাইন ইলেভেনের হামলার জন্যে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের বিষয়ে আলাপ করেছিলেন।

তিনি বলেছেন, “মিশনটা পুরোপুরি সফল, হাজার হাজার আমেরিকান সেনা মারা গিয়েছিল, যুদ্ধের জন্য ট্রিলিয়ন ট্রিলয়ন অর্থ ব্যয় হয়েছিল।”

“আপনি জানেন, খলিফা তৈরি করা মুসলিমদের দায়িত্ব,” তখন বলেছিলেন মি. আলম। তদন্ত কর্মকর্তারা এমনটা দাবী করছেন।

তিন দিন পর তিনি আবার দেখা করেন সরকারি ওই গোয়েন্দার সাথে। তখন ওই এজেন্ট তার কাছে জানতে চান বিন লাদেনের স্থলাভিষিক্ত কে হতে পারেন, মি. আলমের উত্তর ছিল: “তিনি [বিন লাদেন] তার কাজ করেছেন। তার যেটা করা উচিত ছিল, তিনি সেটা করেছেন। এখন বাকিটা আমাদের উপর।”

Comments

comments