একজন মোশাররফ করিম ও বাংলার ধর্মান্ধ জনগণ।

eyenewsbd.com
eyenewsbd.com

একজন মোশাররফ করিম ও বাংলার ধর্মান্ধ জনগণ।

আল- মামুন সানি

যখন একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব যিনি একটা দেশের সর্বস্তরের মানুষদের তাঁর অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে মন জয় করতে পেরেছেন, সেই তিনি যখন একটি চরম সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয় নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সচেতনতামূলক কথা প্রচার করছেন, স্বভাবতই আমরা ভেবে নিবো মানুষ তা স্বাভাবিকভাবে পজিটিভ ভাইভ হিসেবে গ্রহণ করবে। কিন্তু এই মোশাররফ করিম যিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করা একজন অভিনেতা, তিনি একটি অনুষ্ঠানে মেয়েদের পোশাক ও ধর্ষণ মানসিকতা নিয়ে সচেতনতামূলক কথা উপস্থাপন করলেন, ঠিক তখনই কিছু লোক, কিছু বললে ভুল হবে, অধিকাংশ লোকই তথা যারা সরাসরি ইসলামের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজেদের দাবী করে থাকেন তাদের সহকারে সাধারণ জনগণ যারা ইসলাম তথা আরবী নামধারী তবে ইসলামের সরাসরি রীতিনীতি না মেনেও একটি মডারেট অবস্থানে থাকেন তারাও এই মোশাররফ করিমের ওপর বেশ ক্ষেপেছেন। কারণটি হচ্ছে, এই অভিনেতা একটি প্রোগ্রামে বলেছেন যে, “মেয়েরা স্বাধীনভাবে কি তাদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী পোশাক পরতে পারবেন না! আর পোশাকই যদি ধর্ষণের মূল কারণ হয় তবে কেন সাত বছরের শিশু বা বোরকা পরিহিতা নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন!  এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে তাহলে, পোশাক নয় তথা মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতি না ঘটালে, চিন্তা চেতনার বিকাশ না ঘটালে এই সমস্যার সমাধান হবেনা।” খুবই সুন্দর একটি কথা বলেছেন তিনি, কিন্তু এই কথায় ক্ষেপে যাবার কোনো কিছু কি রয়েছে! প্রশ্ন ও সমস্যা দুটোই সেখানে। প্রশ্ন ও সমস্যা কারা বাধাচ্ছেন, আপনার আমার চারপাশে যারা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছেন তারা। তাদের কথা হচ্ছে স্বাধীন পোশাক মানে কী! মেয়েরা ধর্মানুযায়ী শালীন পোশাক পরবে, তা না হলে তো ধর্ষণের শিকার হবে। তারা পোশাক’কে দায়ী করছে এখানে, এটা খুব আলতো করে টুকে রাখুন। এর মানে হচ্ছে মেয়েদের পোশাকের দোষ তথা ধর্মের সাথে মিলিয়ে তারা বোঝাতে চাচ্ছেন ধর্ষক ধর্ষণ করেছে মেয়েটির “অশালীন” পোশাকের জন্য। ধর্ষকের পক্ষেই তারা কথা বলছেন। তাহলে ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষণকেও আমরা আজ হালাল করতে চাচ্ছি কেন? কারণ মেয়েটি শালীনতায় ছিল না বলে ধার্মিক ছেলেটি ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়েছে, যদি মেয়েটি শালীন থাকতো তাহলে ঘটনাটি ঘটতো না। কেমন অদ্ভুত লাগছে শুনতে, নিজেরা ধর্ষণও করবে আবার সেটাকে জায়েজ করার জন্য আবার মেয়েদের ওপরই দোষ চাপাবে, ধার্মিক অবস্থান থেকে মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে চিন্তা না করলে এরকমটিই হবে। এখন আমাদের জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গরাই পারেন মানুষকে সচেতন করতে কিন্তু কী দেখা গেলো, এখানে তিনি জনপ্রিয়তা প্রায় হারাতে বসেছিলেন, তাই সে ক্ষমা চেয়ে শালীনতা ও অশালীনতার সংজ্ঞা বুঝিয়ে নিজেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সাফাই গাইছেন। জোরপূর্বক সাফাই গাইতে হচ্ছে, না হলে এই ধর্মান্ধ জাতি যে তাঁকে আর মেনে নিবেন না। তারা সানি লিওনের গান নাচ দেখে বিনোদনের খোরাক মেটাবেন তবে সানি লিওন খারাপ জাহান্নামী। তারা এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বোরকার নিচে মেয়ের শরীরের অবস্থান দেবেন, এবং এরই পক্ষে কোথাও বলবেন। প্রচণ্ড উত্তাপেও সূর্যের খাঁড়া অবস্থানেও ঢেকে সেদ্ধ হবেন মেয়েরা, আর নিজেদেরকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করবেন। কারণ তাদের ধর্মীয় ভাইয়েরা বোরকা ভিন্ন অন্য জামায় দেখলে তাদেরকে ধর্ষণে উৎসাহিত হয়ে পড়েন। কী আশ্চর্য যুক্তির দেশে ধর্মের তোপের মুখে দেশ। এরা সব মাধ্যম ব্যবহার ও চোখের বিনোদনের পাশাপাশি এখন স্বশরীরে নেমেছেন শালীনতা ও অশালীনতা বোঝাতে। যতদিন এসব মন-মানসিকতার ধর্মীয় চর্চা আর এই ধর্মীয় নাচকে সমর্থন দেয়া মডারেট মুসলিমরা মানবিক মানসিকতায় না পৌঁছেবেন তদ্দিন এই দেশের অবস্থা পদে পদে নিষ্পেষিত হবে। শালীনতা ও অশালীনতা সুড়সুড়ি সর্বদা এই ধর্মান্ধরা মেয়েদের ক্ষেত্রেই জুড়ে দেয় কারণ বাহিরে ঘরে সব জায়গায় মেয়েদের নির্যাতনে তারা আনন্দ পেয়ে যাচ্ছে, ধর্মও তাদের সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে, সাথে ধর্মীয় ফতোয়াবাদেরা তো আছেনই।

Comments

comments