ঈদকে সামনে রেখে লাচ্ছার খাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

ঈদকে সামনে রেখে লাচ্ছার খাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

সবাই ব্যস্ত। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ তৈরি করছেন বাঁশের চটি, তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে খাঁচি। রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ঘরের বারান্দায় কিংবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে আপন মনে তৈরি করছেন খাঁচি। ঈদকে সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাইয়ের খাঁচি তৈরির কাজে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাঁশ শিল্পের কারিগররা। 

জীবনের শুরু থেকেই বাঁশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাদের। যুগ যুগ ধরে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানাতে পারদর্শী তারা। এ শিল্পের তারা নিপুণ কারিগর। এটিই তাদের পেশা ও নেশা। অন্য কাজ করা বা শেখার মানসিকতাও নেই তাদের। বিভিন্ন আকার ও শৈলিতে কাটা বাঁশের এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫ হাজার কারিগর। 

উপজেলার পাকুড়িহাটা, নলডাঙ্গা, আনন্দগঞ্জ, কান্দুনিয়া, দাঁড়াকাটা, রুদ্রবাড়িয়া, সোনাহাটা, বেলকুচি ও বাঁশহাটাসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের জীবিকার একমাত্র পথ বাঁশের সামগ্রী তৈরি করা। বংশপরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বাঁশঝাড় লাগানো এবং তা দিয়ে নানা সামগ্রী তৈরি করাই তাদের কাজ। বাঁশ দিয়ে শুধু চাটাই নয়। এখানে আরো তৈরি হয় খলপা, তালাই, ডোল, খালই, হোচা, বিছন বা হাত পাখা, খাঁচি বা টোপা প্রভৃতি। 

বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকার লাচ্ছা-সেমাই কারখানার মালিকদের চাহিদা মেটাতে খাঁচি তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর কারোরই যেন এ সময় সামান্য কথা বলারও ফুসরত নেই। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই হাত লাগিয়েছেন এসব কাজে। 

উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের বাঁশ শিল্পের কারিগর জাহিদুল ইসলাম বলেন, সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করলেও ঈদের সামনে খাঁচি তৈরির কাজ বেশি করা হয়। লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিকেরা ঈদের আগে খাঁচির চাহিদা দেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাঁচি তৈরি করে দেওয়া হয়। এই খাঁচি বিক্রির জন্য হাট-বাজারে যেতে হয় না। কারখানার মালিকেরা গ্রামে এসে খাঁচি কিনে নিয়ে যান। 

উপজেলার পাকুড়িহাটা গ্রামের জমিরন খাতুন, উকিল মিয়া, শহিদুল ইসলাম বলেন, ১০০ টাকা মূল্যের একটি বাঁশ দিয়ে ১২ থেকে ১৩টি খাঁচি তৈরি করা যায়। প্রতিটি খাঁচির মূল্য প্রায় ৩৫ টাকা। একজন কারিগর দৈনিক ১২টি পর্যন্ত খাঁচি তৈরি করেন। মহাজনের নিকট ১২টি খাঁচি ৪২০ টাকা বিক্রি করা হয়। বাঁশের মূল্য ১০০ টাকা বাদ দিয়ে ঈদের আগে একজন কারিগর দৈনিক ৩২০ টাকা আয় করেন।

Comments

comments