কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ বছর

অপহরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

অপহরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করেছেন ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের বক্তারা। তারা বলেছেন, ‘শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপহরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। অপহরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের কোনও নজর নেই।’

মঙ্গলবার (১১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ বছর শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।

বক্তারা বলেন, ‘শুধু নারী নেত্রী হিসাবে কল্পনা চাকমা অপহরণ হয়েছে এটা ভুল ধারণা। তিনি অপহরণ হয়েছেন গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারী কর্মী হিসেবে। কল্পনা চাকমাকে স্তব্ধ করার জন্য অপহরণ করা হয়েছে। পাহাড়ে কোনও অন্যায়ের বিচার হয় না। এই অবস্থা এখন সমতলেও। তবে পাহাড়ের তুলনায় কম।’

তারা আরও বলেন, ‘যেখানে প্রায় দুই বছর পর দেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে, সেখানে স্বাধীনতার চেতনা এখন বাস্তবায়িত নয়। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের জন্য পাহাড় ও সমতলের মানুষদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘যখন (১৯৯৭ সালে) শান্তি চুক্তি হয়, তখন কল্পনাসহ যারা অপহৃত ছিলো, তারা ফিরে আসবে বলে আমাদের একটা আশা ছিলো। কিন্তু সেটা ২২ বছরেও হয়নি।’

অবিলম্বে নিখোঁজ মাইকেল চাকমাসহ বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তাদের পরিবার ও সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। 

তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা ১১ দফা নির্দেশনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, বাসদ মার্কসবাদীর সদস্য মানস নন্দী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপা চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments